“তারাপীঠে এবার সস্তায় থাকা-খাওয়া”-কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

শনিবার বীরভূম সফরে গিয়ে তারাপীঠে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভা সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বা ২৩ ভাদ্র কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে তারাপীঠকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অতিরিক্ত পাঁচ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থের কোনো অভাব হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসবের দিনগুলিতে কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে এবং সমস্ত দফতর একযোগে কাজ করবে।

তারাপীঠ পরিদর্শনের পর পর্যটকদের সুবিধা নিয়ে বড় পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় খুব বড় একটি ট্যুরিস্ট লজ তৈরি করা হবে, যাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি অত্যন্ত কম খরচে সেখানে থাকতে পারে। পাশাপাশি, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও পিডব্লিউডি-র আওতাধীন সমস্ত রাস্তা সারাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ এবং দেউচা পাঁচামি প্রকল্পসহ রেলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

কৌশিকী অমাবস্যার ভিড় ও নিরাপত্তা সামলাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাঁচ কিলোমিটার অন্তর বিশেষ অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাম্প তৈরি করার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ক্যাম্পগুলিতে বাউল শিল্পীরা থাকবেন, পাশাপাশি পুলিশ বুথ ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হবে।

এদিন তারাপীঠের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হোটেল বা লজে রাতে অতিথিদের তালাবন্ধ করে রাখার গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাতেরবেলা হোটেল চাবি দিয়ে আটকে রাখা হয় যাতে অতিথিরা সকালে বিল না মিটিয়ে চলে যেতে না পারেন, এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ব্যবস্থাকে ‘যতুগৃহ’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করে হোটেল মালিকদের এই বিপজ্জনক অভ্যাস অবিলম্বে বদলে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।