তিনবার তালাবন্ধ বাড়িতে যাবেন বিএলও! সন্দেহজনক ভোটারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা প্রকাশ

দেশজুড়ে যখন এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া চলছে, তখন শনিবার থেকে অসমে শুরু হলো ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআর (Special Revision) প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন বুথ স্তরের আধিকারিকরা (BLO)।

গত ১৭ অক্টোবর অসমে এই এসআর প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী বছর অসমের ১২৬টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এসআর প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  • বয়স নির্ধারণ: ১৯৫০ জনপ্রতিনিধি আইনের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তারিখ অনুযায়ী ভোটারদের বয়স ধার্য হবে।

  • ভোটার সংখ্যা: এই প্রক্রিয়ায় মোট ২ কোটি ৫২ লক্ষ ২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটারের তালিকা সংশোধন হবে।

  • পার্থক্য: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাই অসমে এই এসআর প্রক্রিয়া অন্যান্য রাজ্যে চলা এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা ভিন্ন।

বিএলও-দের জন্য কড়া নির্দেশিকা

নির্বাচন কমিশনের এক সূত্র ইটিভি ভারতকে জানিয়েছেন, সরকারিভাবে আজ থেকে অসমে এসআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিএলও-রা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই করবেন।

বিএলও-দের হাতে আগে থেকে পূরণ করা একটি রেজিস্টার দেওয়া হবে, যেখানে তাঁদের নির্দিষ্ট এলাকার ভোটারদের তথ্য দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে বাড়ির প্রধানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ— তাঁকে বিএলও-র কাছ থেকে তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে এবং কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। এই কাজের জন্য মোট ২৯ হাজার ৬৫৬ জন বিএলও কাজ করছেন।

বিশেষ নিয়মাবলী:

  • একাধিক নাম যাচাই: কোনো ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে কি না, কোনো ভোটার স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন কি না, মৃত ভোটার এবং নতুন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করার কাজ করবেন বিএলও-রা।

  • তালাবন্ধ বাড়ি: যদি কোনো বিএলও গিয়ে দেখেন বাড়িতে তালা লাগানো, তাহলেও তিনি ন্যূনতম তিনবার ওই বাড়িতে যাবেন।

  • সন্দেহজনক ভোটার: সন্দেহজনক ভোটারের ক্ষেত্রে স্বীকৃত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল অথবা যথোপযুক্ত আদালতের থেকে অর্ডার নিয়ে তবেই ভোটারের তথ্যে কোনো পরিবর্তন করা যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:

ধাপতারিখ
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ২৭ ডিসেম্বর
দাবিদাওয়া ও অভিযোগ জানানোর শেষ তারিখ২২ জানুয়ারি
সমস্যা সমাধানের শেষ তারিখ২ ফেব্রুয়ারি
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ১০ ফেব্রুয়ারি