‘অযোগ্যদের সঙ্গে যোগ্যদের কীভাবে আলাদা করা সম্ভব,’ হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে মামলাকারীরা

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এবার চাকরি না-পাওয়া প্রার্থীরা পুরো প্যানেল পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন। এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীদের কাছে জানতে চায়, কীভাবে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করা সম্ভব।

পুনর্গঠনের প্রস্তাব

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার পুরো প্যানেল পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য বরাদ্দ ৫ নম্বরই বিরাট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই হয় সবাইকে এই ৫ নম্বর দেওয়া হোক, অথবা সবার নম্বর থেকে এই ৫ নম্বর বাদ দেওয়া হোক।” তাঁর দাবি, এভাবে প্যানেল পুনর্গঠন করলে যোগ্য প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন।

দুর্নীতির অভিযোগ

প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে পুরো নিয়োগের দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বদলে ‘এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ইচ্ছেমতো স্বজনপোষণ ও অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই নিয়োগে সংরক্ষণের নীতিও মানা হয়নি।

আদালত জানতে চায়, ৩২ হাজার চাকরি বাতিল করা হবে কি না। উত্তরে সৌম্য মজুমদার জানান, তাঁরা পুরো প্যানেল পুনর্গঠন করার দাবি জানাচ্ছেন।

পরবর্তী শুনানি

আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে। সেদিন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্য শেষ করবেন। এই মামলার রায় লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।