এসসি-এসটি আইনের ত্রাণ তহবিলে কোটি টাকার নয়ছয়! এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশে শুরু হচ্ছে মেগা তদন্ত

তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে প্রদত্ত আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ তহবিলের অপব্যবহার রুখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এই আইনের আওতায় দেওয়া ত্রাণ ও দাবির বিষয়ে একটি ব্যাপক রাজ্যব্যাপী তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার ত্রাণ দাবি করছেন কি না, তা এবার খতিয়ে দেখা হবে।
বিচারপতি সন্তোষ রায়ের বেঞ্চে চলা এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালত জানতে পারে, আইনজীবী সন্তোষ কুমার দোহরে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা দেখিয়ে ইতিমধ্যেই মোট ২৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে তুলেছেন। শুধু তাই নয়, জেলা স্তরের কমিটির কাছে তাঁদের আরও ১০ থেকে ১২টি মামলার ক্ষতিপূরণের দাবি বিচারাধীন রয়েছে।
যদিও আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে বারবার মামলা করা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনের অপব্যবহার নয়, তবে মামলার আধিক্য ও দাবির পুনরাবৃত্তি দেখে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এসসি-এসটি আইনের ত্রাণ ব্যবস্থাকে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কল্যাণমূলক বিধান বলে অভিহিত করেছে আদালত। সেই সঙ্গে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ঝাঁসির জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সিনিয়র পুলিশ সুপারের (এসএসপি) সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্ত মামলার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ার আগে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপে গোটা রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় শোরগোল শুরু হয়েছে।