সন্দেহ থেকে নৃশংসতা! ঘরের মধ্যে স্ত্রীর মুণ্ডুচ্ছেদ করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ স্বামীর

পরকীয়ার সন্দেহের বশে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। আসামের গুয়াহাটির বকিশপুর এলাকায় স্ত্রীর মুণ্ডুচ্ছেদ করা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত মহিলার নাম রিয়া তালুকদার। ঘটনার পরই ঘাতক স্বামী রামানুশ গোস্বামী নিজেই দিসপুর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হয়। জানানো হয় যে দীর্ঘক্ষণ ধরে রিয়া ও তাঁর স্বামী রামানুশের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এই খবর পাওয়ার পরই হাতিগাঁও থানার একটি বিশেষ দল দ্রুত বকিশপুরে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। ঘরের দরজা খুলতেই পুলিশ যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়, তাতে রীতিমতো শিউরে ওঠেন তদন্তকারীরা। বিছানায় পড়েছিল রিয়ার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা রক্তাক্ত দেহ।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ সিআইডি এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। ফরেনসিক দল ঘর থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। গুয়াহাটি পূর্বের ডিসিপি টি.আর. পেগু জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে ওই দম্পতির মধ্যে গত কিছুদিন ধরে প্রায়ই অশান্তি ও ঝগড়া হতো। অভিযুক্ত স্বামীর জোরালো সন্দেহ ছিল যে স্ত্রীর অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। রবিবার সকালেও এই একই বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা বেধেছিল। পুলিশ অনুমান করছে, সেই ক্ষোভের বসেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর ওপর হামলা চালায় রামানুশ এবং তাঁর মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে দেয়।

এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর গভীর রাতেই দিসপুর থানায় হাজির হন রামানুশ গোস্বামী। তিনি পুলিশকে জানান যে তিনি খুন করেছেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাতিগাঁও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাঁকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মৃতদেহের শরীরের কিছু অংশ কুকুরকে খাওয়ানো হয়েছে বলে যে চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন ছড়িয়েছে, পুলিশ তার সত্যতা যাচাই করার জন্য ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।