প্রতিবেশীকে নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সন্দেহ, ২ কিশোরকে খুন, পুরুলিয়ায় জোড়া খুনে যাবজ্জীবন

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় অবশেষে সাজা ঘোষণা করল আদালত। ২০২৩ সালের মে মাসে দুই কিশোরকে নৃশংসভাবে খুনের অপরাধে মন্টু বাউরিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল রঘুনাথপুর মহকুমা আদালত। প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রিয়জিৎ চট্টোপাধ্যায় এই রায় ঘোষণা করেন।

কী ঘটেছিল সেদিন?

২০২৩ সালের ১০ মে, রঘুনাথপুরের বাঁকড়া পাড়ার বাসিন্দা মন্টু বাউরি তাঁর স্ত্রী ও প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী সুরজ বাউরির মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের সন্দেহে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় মন্টু ও সুরজের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়। মন্টু ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুরজের উপর হামলা চালান। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুরজের দাদা প্রতীক (১৮) ও বাবা বাপি ছুটে এলে মন্টু তাঁদের উপরও হামলা করেন। এর ফলে সুরজ ও প্রতীকের মৃত্যু হয়।

দ্রুত বিচার ও কঠোর সাজা

ঘটনার পর পুলিশ মন্টুকে গ্রেফতার করে। ১১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হয় এবং ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এই মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী তাঁদের বয়ান দিয়েছেন, যা মন্টুর বিরুদ্ধে গিয়েছিল। সরকারি আইনজীবী প্রবীর তেওয়ারি জানান, দোষীর শরীরে নিহত সুরজের রক্ত লেগেছিল, যা অপরাধের একটি বড় প্রমাণ। আদালত সব তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে এই রায় দেয়। মাত্র দুই বছরের মধ্যে এই ধরনের মামলার রায় ঘোষণা করে রঘুনাথপুর আদালত এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রায়ে নিহতদের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।