অবশেষে পুলিশের জালে হুমায়ুন কবীর? রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন নওদার বিধায়ক

রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে অবশেষে রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য এবং হুমকির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে তলব করেছিল পুলিশ। পুলিশের পাঠানো দ্বিতীয় দফার নোটিসের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে তিনি থানায় উপস্থিত হন, যা রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমায়ুন কবীরের করা সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, তিনি বিজেপি কর্মীদের সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকে রেজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠায়। তবে প্রথম দফার নোটিসে সাড়া দেননি তিনি। নির্ধারিত দিনে অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। এরপর পুলিশ নতুন করে আবার নোটিস জারি করলে মঙ্গলবার তিনি থানায় হাজিরা দিতে বাধ্য হন।
মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হুমায়ুন কবীরকে রেজিনগর থানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি পৌঁছানোর পর তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হাজিরা বিধায়কের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পঞ্চায়েত নির্বাচন বা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বিরোধী দলের কর্মীদের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। দলের অভিযোগ, শাসকদলের বিধায়ক হওয়ায় তিনি আইনকে তোয়াক্কা না করে বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। থানায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিধায়ককে যথেষ্ট সংযত দেখা গেলেও, বাইরে উপস্থিত কর্মীদের ভিড় এবং রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুলিশ জানিয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁকে আবার তলব করা হতে পারে। বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কের এই আইনি জটিলতা আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।