‘অপারেশন টাইগার’-এ ধরাশায়ী উদ্ধব ঠাকরে! শিন্ডে শিবিরে যোগ দিয়ে বড় চমক প্রবীণ নেতার

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধাক্কা খেলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। বালাসাহেব ঠাকরের প্রতিষ্ঠিত মূল শিবসেনার উত্তরাধিকারের লড়াইয়ে একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধি হারানোর পর এবার আরও এক শক্তিশালী স্তম্ভ হারালেন উদ্ধব। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন প্রবীণ নেতা তথা বিধান পরিষদের সদস্য (এমএলসি) সচিন অহির। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ‘অপারেশন টাইগার’-এর সাফল্য এবং উদ্ধব ঠাকরের জন্য এক বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সচিন অহিরের দলবদল ও রাজনৈতিক প্রভাব:
সচিন অহির দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম মুখ ছিলেন। তাঁর মতো প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগ কেবল সংখ্যার নিরিখেই নয়, রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে শিবসেনায় ঐতিহাসিক ভাঙনের পর থেকেই একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ এবং জনপ্রতিনিধি উদ্ধব শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সচিনের এই সিদ্ধান্তে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। জানা গেছে, যোগদানের আগে শিন্ডে শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন সচিন। তাঁর এই দলবদল বিধান পরিষদে শিন্ডে শিবিরের শক্তিকে আরও সুসংহত করবে।
উদ্ধব শিবিরের শোচনীয় অবস্থা:
বর্তমানে উদ্ধব ঠাকরের হাতে লোকসভায় মাত্র ৩ জন সাংসদ অবশিষ্ট রয়েছেন। মারাঠি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধবের অনুগত বিধায়কদের একটি বড় অংশও এখন আর তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন না। বাল ঠাকরের আসল উত্তরাধিকারী কে—এই লড়াইয়ে নির্বাচনী প্রতীক ‘তীর-ধনুক’ এখন একনাথ শিন্ডের দখলে। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরে এখন ‘মশাল’ প্রতীক নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচানোর কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সচিন অহিরের মতো দক্ষ সংগঠকের প্রস্থান উদ্ধবের মূল সমর্থনভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিল।
এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি:
একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এই যোগদানকে প্রকৃত শিবসেনা হিসেবে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। শিন্ডে শিবিরের দাবি, ক্রমাগত নেতাদের যোগদানই প্রমাণ করে যে বালাসাহেব ঠাকরের আসল আদর্শ এখন তাদের সঙ্গেই রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি-শিন্ডে জোটের এই জয় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে তাদের অবস্থানকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সচিন অহিরের দলত্যাগ শুধু একটি সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, এটি মারাঠা রাজনীতির সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে উদ্ধব ঠাকরের সংগঠন পুনর্গঠনের মরিয়া চেষ্টা, আর অন্যদিকে ধারাবাহিক দলত্যাগের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে। সচিন অহিরের এই সিদ্ধান্ত কি উদ্ধব শিবিরের চূড়ান্ত পতনের সূচনা? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।