এনআইএ-র জালে আইএসআই যোগের সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিক! ইজাজকে সামনে রেখে ম্যারাথন জেরা চালাল কেন্দ্রীয় এজেন্সি

হাবড়া থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফকে ঘিরে তদন্তে এবার আরও সক্রিয় হয়ে উঠল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এদেশে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতদিন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তদন্ত চললেও, মামলার গুরুত্ব বুঝে এবার আসরে নেমেছে দেশের শীর্ষ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে ধৃত রানার বিষয়ে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে এনআইএ। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রানা রউফ এবং তাঁর সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ ও ভুয়ো নথি উদ্ধার

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান ও তথ্য বলছে, ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ অত্যন্ত সুকৌশলে নেপাল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর ভুয়ো পরিচয়ের আশ্রয় নিয়ে তিনি এদেশের বিভিন্ন জায়গায় পাকাপোক্তভাবে থাকার ব্যবস্থা করেন। রানার কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কীভাবে এবং কার সাহায্যে এই জাল নথি তাঁর হাতে পৌঁছল, কিংবা এর পিছনে কোনো সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়াও গোয়েন্দাদের বিশেষ নজর রয়েছে রানার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি গোপন নোটবুকের ওপর। ওই নোটবুক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নামের তালিকা মিলতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা। রানা দেশের কোথায় কোথায় যাতায়াত করেছিলেন, কাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কৌশলগত স্থান তাঁর টার্গেটে ছিল কি না—সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

কলকাতার বুকে রেইকি ও আইসিআই যোগের সওয়াল

তদন্তের স্বার্থে কলকাতার তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজকেও নজরে রেখেছেন গোয়েন্দারা। রানা রউফের হাতে ভারতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার পেছনে ইজাজ বা অন্য কোনো চক্রের প্রত্যক্ষ হাত ছিল কি না, তা নিয়ে চলছে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ। বিশেষ করে জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া এবং রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পাওয়ার নেপথ্যের রহস্যভেদ করতে তৎপর এনআইএ।

পাশাপাশি, কলকাতার তপসিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় রানা রউফের গতিবিধি এবং তাঁর সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের জোরালো সন্দেহ, কলকাতায় থাকাকালীন অভিযুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘুরে রেইকি করেছিল। সেই রেইকির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে কোনো বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখন ডেমোগ্রাফিক ও টেকনিক্যাল প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের অন্যান্য জঙ্গি-যোগের মামলার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও সমান্তরালভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।