অন্নপূর্ণা যোজনায় বঞ্চিত? মেচেদায় বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর!

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আবহে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা থেকে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে তিনি এই যোজনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন।
গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর আসছিল যে, অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য মহিলা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। এছাড়া বহু মানুষের আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা প্রকৃত দাবিদার এবং দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী যোগ্য মহিলা, তাঁদের টাকা কেন পৌঁছাবে না? সরকারের উচিত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই তালিকা পুনর্বিবেচনা করা।” তিনি রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার নামে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার এই রাজনীতি মানুষ আর সহ্য করবে না। যারা আবেদন করেও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মেচেদার মঞ্চ থেকে শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, স্বাস্থ্যখাতেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ১৬ আগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালন করা হবে। এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আরও নিবিড়ভাবে পৌঁছে দেওয়া। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করেন যে, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো জনমোহিনী প্রকল্পের ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে তিনি শাসক দলকে চাপে ফেলতে চাইছেন। মেচেদার এই জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতার দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং সরাসরি প্রশাসনের দিকে তোলা আঙুল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
পরিশেষে, বিরোধী দলনেতা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, তার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত—প্রতিটি বিষয়েই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই বক্তব্য কতটা প্রভাবশালী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।