বিষম জ্বালা জুড়োবেন মহাদেব! শ্রাবণের জলাভিষেকের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য জানুন এই প্রতিবেদনে

সনাতন ধর্মের ক্যালেন্ডারে শ্রাবণ মাস মানেই এক পবিত্র আধ্যাত্মিক আবহ। ভক্তদের কাছে এই মাসটি কেবল একটি সময়কাল নয়, বরং দেবাদিদেব মহাদেবের সান্নিধ্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। ২০২৬ সালের শ্রাবণ মাসের সূচনা হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব মহালগ্নে। পঞ্জিকা মতে, ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এই পুণ্য মাস। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, শ্রাবণের এই প্রথম দিনেই চারটি অত্যন্ত শুভ যোগের এক দুর্লভ মহানির্ঘণ্ট তৈরি হচ্ছে, যা এই মাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রাবণের এই পুরো মাসজুড়ে স্বয়ং ভোলানাথ মর্ত্যলোকে বাস করেন এবং তাঁর ভক্তদের সমস্ত মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় যখন বিষাক্ত হলাহল নির্গত হয়েছিল, তখন সমগ্র জগৎকে রক্ষা করতে মহাদেব তা কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। বিষের তীব্র জ্বালায় নীলকণ্ঠের দেহ যখন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন দেবতারা তাঁর মাথায় শীতল জল অর্পণ করেছিলেন। সেই শান্তিদায়ক প্রথা থেকেই মূলত শিবলিঙ্গে জলাভিষেকের প্রচলন শুরু হয়। তাই শ্রাবণের প্রতিটি সোমবার এবং এই পুরো মাসে মহাদেবকে জল অর্পণ করাকে সবথেকে অব্যর্থ এবং সহজ উপায় হিসেবে ধরা হয়।
২০২৬ সালের এই শ্রাবণ মাস চলবে ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে রুদ্রাভিষেক, শিব মন্ত্র জপ এবং ব্রত পালনের মাধ্যমে শিবের কৃপা লাভ করা সম্ভব। তবে পূজার পূর্ণ ফল লাভের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
প্রস্তুতি: শ্রাবণের ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন। এরপর মনস্থির করে মহাদেবের ধ্যানে বসুন।
অভিষেক: ঘরের বা মন্দিরের শিবলিঙ্গে প্রথমে বিশুদ্ধ গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল অর্পণ করুন। এরপর দুধ, দই, মধু, ঘি এবং চিনি দিয়ে তৈরি ‘পঞ্চামৃত’ দিয়ে শিবকে স্নান করান। স্নান শেষ হলে পুনরায় পরিষ্কার জল ঢেলে শিবলিঙ্গ পরিষ্কার করুন।
উপকরণ: মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, ভাঙ, শ্বেত চন্দন এবং আতপ চাল (অক্ষত) একে একে নিবেদন করুন।
মন্ত্র ও ভোগ: ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে ফল বা মিষ্টির ভোগ নিবেদন করুন। পূজার সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
মনে রাখবেন, ভক্তিই হলো শিবের আরাধনার প্রধান চাবিকাঠি। সঠিক নিয়ম ও নিষ্ঠার সাথে এই শ্রাবণে জলাভিষেক করলে সংসারের সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।