অন্নপূর্ণা যোজনায় ঐতিহাসিক বদল! মহিলাদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে ৩০০০ টাকা? জেনে নিন বড় ঘোষণা

রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) প্রকল্পে নিয়মের গেরো অনেকটাই শিথিল করল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে এক গুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১৭ অগস্ট থেকেই এই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আর্থিক অনুদানের টাকা সরাসরি যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করবে। এখন থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে এই যোজনার নির্ধারিত তিন হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। রাজ্য সরকারের দাবি, আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মতো এই ক্ষেত্রে কোনো রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপকদের হাতেই সরকারি সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।

এদিনের গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জুন মাসে প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষ এবং জুলাই মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ে কোটিরও বেশি মহিলাকে এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিল। তবে গত মাসে টাকা বিতরণের পর নবান্নে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। অনেকেরই দাবি ছিল যে, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা টাকা পাননি, আবার উল্টো দিকে অযোগ্য ব্যক্তিরা টাকা পেয়ে গেছেন এমন অভিযোগও সামনে আসে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই জেলাশাসক ও বিডিওদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুনরায় সমীক্ষা চালানোর জন্য।

রাজ্য সরকারের পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু জুলাই মাসে তিনটি ঘর বিশিষ্ট পাকা বাড়ি অথবা ৫০ ডেসিমেল জমির মালিকানার কঠোর শর্তের কারণে বহু দুস্থ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এবার সেই সমস্ত জটিল নিয়মে বড়সড় বদল এনেছে নবান্ন। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে তিনটি ঘর বিশিষ্ট বাড়ির শর্ত সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৫০ ডেসিমেলের জমির শর্তটি শুধুমাত্র বড় কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে এবং ছোট পৌরসভা এলাকার ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি জিএসটি সংক্রান্ত জটিলতাও বাতিল করা হয়েছে।

এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে আগামী অগস্ট মাস থেকে আরও অনেক বেশি সংখ্যক গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলা এই তিন হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবেন। এছাড়া, যাঁরা ইতিপূর্বে বিধবা ভাতার মতো অন্য কোনো কম টাকার প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন, তাঁদেরও এই অন্নপূর্ণা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করে সরাসরি পুরো তিন হাজার টাকাই দেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বা দিব্যাঙ্গ মহিলারা তাঁদের বর্তমান ১৫০০ টাকা ভাতার পাশাপাশি এই যোজনার তিন হাজার টাকাও একত্রে লাভ করবেন। তবে স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী, বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকার বেশি পারিবারিক আয়যুক্ত আয়করদাতা কিংবা যে সমস্ত মহিলারা নিজে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না। তবে চুক্তিবদ্ধ বা অস্থায়ী কর্মীদের পরিবারের মহিলারা সহজেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আগের সরকারের নারী কল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, অতীতে ভোটের আগে তদ্বির করে ভুয়া তালিকা তৈরি করে সরকারি অর্থ নয়ছয় করা হয়েছিল। আধার লিঙ্ক ছাড়াই ভূতুড়ে বা মৃত ব্যক্তির নামে টাকা পাঠানোর মতো বহু ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সরকারি অর্থের একটি পাইপসও অপচয় হতে দেবে না। এই বিশাল সংখ্যক উপভোক্তার আর্থিক ভার বহন করার জন্য রাজ্য বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যদি নির্দিষ্ট গাইডলাইনের মধ্যে থেকেও কোনো প্রকৃত প্রাপক বঞ্চনার শিকার হন, তবে তাঁদের অভিযোগ জানানোর জন্য আগামী ২১ বা ২২ অগস্ট একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যাবতীয় ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রতিটি যোগ্য মহিলার কাছে টাকা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।