১৫ অগাস্টের ঠিক আগে বড় নাশকতার ছক বানচাল! হাবড়া থেকে গ্রেফতার আইএসআই-এর পাক চর

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক প্রাক্কালে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় সাফল্যের খবর সামনে এল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগেই একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বড়সড় নাশকতার ছক পুরোপুরি বানচাল করে দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকার ব্যস্ত যশোর রোডের চোঙদা মোড় এলাকা থেকে আইএসআই (ISI) যোগের অভিযোগে এক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে চালানো এই সফল অভিযানে ধৃত পাক নাগরিককে গত বুধবারই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্য পুলিশের এসটিএফ শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই পাকিস্তানি নাগরিকের নাম রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, আসন্ন ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন বা তার আশপাশে ভারতের মাটিতে বড়সড় কোনও নাশকতামূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল তার। পাকিস্তানি এই গুপ্তচর বা চরকে বিশেষভাবে কিছু গোপনীয় কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। যদিও তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো মোবাইল ফোন বা অন্যান্য বৈদ্যুতিন গ্যাজেট উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে তার কাছে একটি সন্দেহজনক নোটবুক পাওয়া গেছে। সেই নোটবুকের পাতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের হদিশ মিলেছে। যার মধ্যে বিশেষভাবে শ্রীলঙ্কা এবং নেপালের কিছু সিমকার্ডের তথ্যও রয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, ভারতে সমস্ত গোপন কার্যকলাপ সম্পন্ন করার পর রানা রউফ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে প্রথমে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা কষেছিল। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই রাজ্য পুলিশের এসটিএফের নির্ভুল অভিযানে তার সমস্ত ছক জল হয়ে যায়।
এসটিএফ সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, ধৃত রানা রউফ সরাসরি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের অত্যন্ত সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল। তাকে ভারতীয় ভূখণ্ডে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী ‘সেলের’ জাল বিস্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন সামরিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় স্তরে লোক নিয়োগের বড় দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছিল রানার ওপর। বিশেষ করে কলকাতার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘ফোর্ট উইলিয়াম’-এর চত্বর এবং তার আশপাশের এলাকার ওপর তার তীক্ষ্ণ নজর ছিল। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ফোর্ট উইলিয়ামের ভেতরের ছবি, সংবেদনশীল ভিডিয়ো এবং গোপন মানচিত্র সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই পাক চরকে। সে সেই অনুযায়ী নিজের কাজ শুরুও করে দিয়েছিল। পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি।
বারাসাত আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই পাক নাগরিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ জানা জানিয়েছেন যে, ধৃত ব্যক্তি পাকিস্তানি নাগরিক এবং সে বনগাঁর পেট্রাপোল ও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পরবর্তীতে কাঠমান্ডুতে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার চোঙদা এলাকা থেকে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। যদিও সে অনেক তথ্য মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিয়েছিল, তবুও কিছু চ্যাট ও ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এসটিএফ এখন গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা দেশজুড়ে বা এ রাজ্যে জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে তৎপর গোয়েন্দারা।