লঞ্চ হলো গুগলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোল্ডেবল ফোন! দাম ও তাক লাগানো ফিচার জানলে চোখ কপালে উঠবে

প্রযুক্তি দুনিয়ায় ফের এক বড়সড় চমক দিল টেক জায়ান্ট গুগল। নিউইয়র্কে আয়োজিত জমজমাট ‘মেড বাই গুগল’ (Made by Google) ইভেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হলো অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ‘গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড’ (Google Pixel 11 Pro Fold)। প্রি-বুকিংয়ের দরজা ইতিমধ্যে খুলে গেছে এবং আগামী ২০ আগস্ট থেকে বিশ্বজুড়ে এবং ভারতের ইচ্ছুক ক্রেতারা এই ফোনটি সরাসরি কিনতে পারবেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে মোড়া এই বইয়ের আকৃতির ফোল্ডেবল স্মার্টফোনটি ঘিরে ইতিমধ্যেই টেকপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ভারতের বাজারে গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এর দাম রাখা হয়েছে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। একটিমাত্র সিঙ্গল কনফিগারেশনেই ফোনটি বাজারে আনা হয়েছে, যাতে রয়েছে ১৬ জিবি র্যাম (RAM) এবং ৫১২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। প্রখ্যাত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্ট (Flipkart) এবং গুগল ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল অনলাইন স্টোর থেকে ফোনটি প্রি-বুক করা যাবে। আকর্ষণীয় অলিভ (Olive) কালার অপশনে ফোনটি লঞ্চ করা হয়েছে।
ফিচার এবং স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে ফোনটিতে রয়েছে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৭ (Android 17) অপারেটিং সিস্টেম। গুগল জানিয়েছে, এই ফ্ল্যাগশিপ মডেলে টানা ৭ বছরের ওএস আপগ্রেড, সিকিউরিটি এবং পিক্সেল ড্রপ আপডেট দেওয়া হবে। ফোনের ভেতরে রয়েছে ৮ ইঞ্চির (২,০৭৬ x ২,১৫২ পিক্সেল) ওএলইডি সুপার অ্যাকুয়া ফ্লেক্স ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ এবং পিক ব্রাইটনেস ৩,৬০০ নিটস। অন্যদিকে, কভার ডিসপ্লে হিসেবে রয়েছে ৬.৫ ইঞ্চির (১,০৮০ x ২,৩৪২ পিক্সেল) সুপার অ্যাকুয়া ডিসপ্লে। ফোল্ডেবল স্ক্রিন সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে আলট্রা-ডিউরেবল সেরামিক গ্লাস কভার এবং ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে আইপি৬৮ (IP68) রেটিং, যা জল ও ধুলো থেকে ডিভাইসটিকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেবে।
পারফরম্যান্সের জন্য এই ফোনে রাখা হয়েছে গুগলের নিজস্ব লেটেস্ট টেন্সর জি৬ (Tensor G6) চিপসেট এবং টাইটান এম৩ সিকিউরিটি কো-প্রসেসর। ক্যামেরা ডিপার্টমেন্টে রয়েছে ট্রিপল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ—যার মধ্যে প্রধান সেন্সরটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের, সঙ্গে রয়েছে ১০.৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড এবং ১০.৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স। টেলিফটো লেন্সে ৫এক্স অপটিক্যাল জুম ও ৩০এক্স পর্যন্ত ডিজিটাল জুমের সুবিধা মিলবে। এ ছাড়া সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য কভার ও ইনার স্ক্রিনে দুটি ১০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।
পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য ফোনটিতে রয়েছে ৪,৮০৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের (4,806mAh) শক্তিশালী ব্যাটারি। কোম্পানির দাবি, একবার চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারে এটি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনায়াসে ব্যাকআপ দিতে পারে। ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে শূন্য থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব। কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে ফাইভ-জি, ফোরজি এলটিই, ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৬, এনএফসি, ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং নেভিক (NavIC) সহ আধুনিক সমস্ত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়াম ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এটি অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে চলেছে।