রাজ্যে চালু হতে চলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশের ঘোষণা করেছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পরিষেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও পদ্ধতি:
শুরু: আগামী ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এনরোলমেন্ট বা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সময়সীমা: মোট ৯০ দিন ধরে চলবে এই আবেদন প্রক্রিয়া। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে ফর্ম পূরণের পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আবেদন: অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে।
সহায়তা: পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং বড় পুরসভা এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফর্ম ফিলআপের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া বিডিও অফিস ও স্থানীয় বিধায়কদের মাধ্যমেও সাহায্য পাওয়া যাবে। ১৫, ১৬ ও ১৭ তারিখে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।
কেন এই পরিবর্তন?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষের মতো মৃত, ভুয়ো বা অনাবাসিক ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে ৩০০০ টাকা পৌঁছে দিতেই এই নতুন তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকার প্রায় ২ কোটি প্রকৃত উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনতে চায়।
পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ:
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার প্রতিটি পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করতে চাই।”
অন্নপূর্ণা বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার:
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, নতুন প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় চলে আসবেন। স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের মতোই এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির জন্য স্বরাষ্ট্র দফতর, ওয়েবিল (Webel) এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ডেটাবেস তৈরির কাজ চলছে।
এডিটরস নোট: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের এই নথিভুক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কোনো প্রকার বিভ্রান্তি এড়াতে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিক বা বিধায়কদের সহায়তা নেওয়া এবং সঠিক তথ্য জমা দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।





