অদৃশ্য অংশের গোপন তথ্য ফাঁস! চাঁদের প্রথম ফুল পোলারেমেটিক রাডার ম্যাপ তৈরি করল ISRO, মাইলফলক চন্দ্রযান-২

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩ এর ঐতিহাসিক অবতরণের সাফল্যের পর, এবার নতুন বৈজ্ঞানিক মাইলফলক তৈরি করল ২০১৯ সালে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানো চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2)। এই অরবিটার চাঁদের পৃষ্ঠের ‘কখনও না দেখা অংশের’ যে বিপুল তথ্য পাঠিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ইসরো তৈরি করেছে চাঁদের প্রথম ফুল পোলারেমেটিক এবং এল-ব্যান্ড রাডার ম্যাপ।

১৪০০ ডেটাসেট ও নতুন অ্যালগরিদম
ইসরোর আহমেদাবাদে অবস্থিত স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-২ এর ডুয়েল ফ্রিকোয়েন্সি সিন্থেটিক অ্যাপারচার র‌্যাডার (DFSAR) থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১৪০০ র‌্যাডার ডেটাসেট সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই ডেটা বিশ্লেষণ করতে ইসরোর টিম নিজেরাই তৈরি করেছে বিশেষ অ্যালগরিদম ও অ্যাডভান্সড ডেটা। এই নতুন ম্যাপ:

চাঁদে জল-বরফের উপস্থিতি নির্ণয়ে সাহায্য করবে।

চাঁদের পৃষ্ঠ কতটা শক্ত ও মাটির গভীরতা ও ঘনত্ব পরীক্ষা করতে সহায়ক হবে।

চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের আরও সুবিধা দেবে।

ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য রোডম্যাপ
চাঁদের অভিযানে এটি একটি বিরাট মাইলফলক। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চাঁদের মেরু অঞ্চলে সৌরজগতের প্রাচীনতম রসায়ন চিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। এই রাডার ম্যাপ ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য বিশেষ সাহায্য করবে, বিশেষত চাঁদের মেরুর পরিবেশ কেমন, তা জানতে এই তথ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরোর হাত ধরেই ভবিষ্যতে আবারও চাঁদে অভিযান করবে ভারত। এই বৈপ্লবিক তথ্যগুলি আসন্ন লুনার মিশনের পরিকল্পনা এবং সাফল্যের জন্য এক নতুন রোডম্যাপ তৈরি করে দিল।