অঙ্গুলের গণধর্ষণ কাণ্ড, বিজেপি শাসনে নারী নির্যাতনের গ্রাফ বৃদ্ধি, অভিযুক্ত ২ নাবালক সহ ৩ গ্রেপ্তার

ওড়িশার অঙ্গুল জেলায় এক আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনা ফের একবার গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দু’জন নাবালক। যদিও পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে, তবুও এই ঘটনা বিজেপি শাসনে নারীদের উপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। রবিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এক হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা মহিলাটি তাঁর ভাইপোকে নিয়ে বাইকে করে ফিরছিলেন। অঙ্গুলের ছেন্দিপাড়া এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে তিনি বনাঞ্চলের দিকে গেলে, সেখানে একটি ট্রাক্টর নিয়ে তিন যুবক এসে তাঁকে জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ করে। এরপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর মহিলাটি বাড়ি ফিরে পরিবারকে সব জানান। সোমবার তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে, পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন নাবালক হওয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, দুটি মোবাইল ফোন এবং অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর পরিহিত জামাকাপড় জব্দ করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা লাফিয়ে বেড়েছে। এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হাথরাস, উনাও এবং মণিপুরের মতো নৃশংস ঘটনাগুলি বারবার বিজেপি সরকারের নারী নীতি এবং ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগানের ব্যর্থতাকে সামনে এনেছে।

স্থানীয় জনগণ ও নারী সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে। তাঁদের মতে, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দলিত ও আদিবাসী নারীদের প্রতি হওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আরও কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে।