বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। নির্বাচনের আঁচ বাড়তেই রাজ্যে দাঙ্গা বা বড়সড় অশান্তি রুখতে কলকাতায় জরুরি বৈঠকে বসলেন দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলরা (DG)। বিএসএফ, সিআরপিএফ, এসএসবি, আইটিবিপি এবং সিআইএসএফ—এই পাঁচ বাহিনীর প্রধানদের একসঙ্গে কলকাতায় বৈঠক ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
লক্ষ্য একটাই: অবাধ ও রক্তপাতহীন ভোট
২৩ এবং ২৯ এপ্রিল—দুই দফার এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। এদিনের বৈঠকে সিআরপিএফ-এর ডিজি জি. পি. সিং সহ শীর্ষ কর্তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছেন:
৩ লক্ষ সেনার মোতায়েন: ২০২১-এর রেকর্ড ভেঙে এবার প্রায় ২.৪ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে।
জিরো টলারেন্স নীতি: বুথে সামান্যতম গোলমাল হলেই ভোট বন্ধ করে ‘রিপোলিং’-এর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবেদনশীল জেলায় নজর: মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
ভোটের পরেও থাকবে ‘নিরাপত্তা কবজ’
এবারের বৈঠকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, ভোট মিটে যাওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে হিংসার ঘটনা ঘটে। তাই এবার নির্বাচনের পরেও কয়েকশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থেকে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
এলাকা দখলে রুট মার্চ ও ইভিএম সুরক্ষা
ইতিমধ্যেই ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে ঢুকে রুট মার্চ শুরু করেছে। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও, এলাকা আধিপত্য (Area Domination) এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীই। কোনোভাবেই ভোটারদের ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না।





