দেশজুড়ে শহর ও গ্রামের সংযোগকারী জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ভারতীয় রেল এখন আধুনিকীকরণের এক নতুন দিগন্তে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে পূর্ব রেল এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করল। সম্প্রতি মালদা ডিভিশনের নাথনগর ও আখবারনগর স্টেশনের মধ্যবর্তী ছিট মাকান্দপুরে চালু করা হয়েছে অত্যাধুনিক ইন্টারমিডিয়েট ব্লক সিগন্যালিং (IBS) ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি, গত ১৭ এপ্রিল থেকে ভাগলপুর (কিউল প্রান্ত) থেকে আখবারনগর পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে ডাবল ডিস্ট্যান্স সিগন্যালিং।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্করের দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং মালদা ডিভিশনের ডিআরএম মনীশ কুমার গুপ্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই জটিল প্রযুক্তিগত কাজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ট্রাফিক ব্লকের মধ্যে এই কাজ শেষ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ ট্রেন চলাচলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি এবং ট্রেনের সময়সূচীও বিঘ্নিত হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মালদা ডিভিশনের এটিই প্রথম IBS কমিশনিং।
কী কী পরিবর্তন এল রেলের এই আধুনিকীকরণে?
অপারেশনাল নমনীয়তা: ভাগলপুর স্টেশনে উন্নত সিগন্যাল বিন্যাস চালুর ফলে ট্রেনের আসা-যাওয়ার পথে নমনীয়তা বেড়েছে এবং নিরাপত্তার মান উন্নত হয়েছে।
স্মুথ ট্রেন অপারেশন: নাথনগর ও আখবারনগর স্টেশনে আধুনিক সিগন্যালিং এবং নির্ভরযোগ্য ব্লক ওয়ার্কিং সিস্টেম ট্রেন চলাচলের পথকে আরও সুগম করেছে।
যাত্রী নিরাপত্তা: বাসুদেবপুর স্টেশনে নতুন IBS স্থাপনের ফলে ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান কমলেও নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও মজবুত হয়েছে। লেভেল ক্রসিংগুলোতে ইন্টারলকড গেট স্টপ সিগন্যাল সড়ক ও রেল উভয় ব্যবহারকারীর জন্যই ঝুঁকি কমিয়েছে।
এই প্রযুক্তির ফলে লাইন ধারণক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন থেকে ট্রেনের মধ্যবর্তী দূরত্ব যেমন কমবে, তেমনই কমবে সিগন্যালের অপেক্ষায় মাঝপথে ট্রেনের দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা। পূর্ব রেলের এই পদক্ষেপ রেল পরিকাঠামোকে এক বিশ্বমানের উচ্চতায় নিয়ে গেল, যার সুফল সরাসরি পাবেন সাধারণ রেলযাত্রীরা।





