নন্দীগ্রামের হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ময়দান থেকে ফের একবার বিতর্কের পারদ চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক এবং নন্দীগ্রামের জনবিন্যাস। এক জনসভা থেকে প্রকাশ্যেই তিনি ঘোষণা করলেন, মুসলিম প্রধান বুথগুলোতে বা পাড়াগুলোতে প্রচারের জন্য তাঁর কোনো তাগিদ নেই। বরং হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর রণকৌশল বাতলে দিলেন তিনি।
শুভেন্দু এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, নন্দীগ্রামের প্রায় ৭০টি বুথ যা মুসলিম অধ্যুষিত, সেখানে তিনি জয়ের আশা করেন না এবং সেখানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেন না। তাঁর দাবি, “আমি জানি ওই বুথগুলো থেকে আমি ভোট পাব না। তাই সেখানে সময় নষ্ট না করে আমি বাকি বুথগুলোতে হিন্দু ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করার দিকে জোর দেব।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, মেরুকরণের রাজনীতি করতেই এই ধরণের উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ শুভেন্দুর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারংবার ‘৭০-৩০’ ফর্মুলার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোট যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে বাকি ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এদিনও তাঁর কথায় সেই একই সুর শোনা গেল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা তাঁকে ভোট দেবে না, তাদের তোষণ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর আগে নন্দীগ্রামে নিজের জমি শক্ত রাখতে ফের একবার মেরুকরণকেই হাতিয়ার করছেন শুভেন্দু। একদিকে যেমন তিনি মুসলিম ভোট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, অন্যদিকে হিন্দু ভোটারদের প্রতি তাঁর বার্তা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, নন্দীগ্রামের জয়ের চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে সনাতনী হিন্দুদের সংহতির ওপর। এখন দেখার, শুভেন্দুর এই ‘নো এন্ট্রি’ স্ট্র্যাটেজি আগামিদিনে নন্দীগ্রামের ভোটবাক্সে কী প্রভাব ফেলে।





