রাজ্যে একদিকে চড়চড় করে বাড়ছে পারদ, আর অন্যদিকে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে এবার কি স্কুলপড়ুয়াদের গরমের ছুটি লম্বায় আরও বাড়তে চলেছে? মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১১ মে থেকে গরমের ছুটি পড়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।
ভোট ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপটে বন্ধ পঠনপাঠন
রাজ্যে নির্বাচনের কারণে জেলায় জেলায় ইতিমধ্য়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার প্রায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মমাফিক সরকারি স্কুল, কলেজ এবং বিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলিতেই এই জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে অনেক স্পর্শকাতর এলাকায় স্কুলগুলিতে ইতিমধ্যেই পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে।
ছুটি কি এগিয়ে আসবে?
২০২৬-এর পর্ষদ নির্দেশিকা অনুযায়ী ১১ মে থেকে মাত্র ৬ দিনের গরমের ছুটি বরাদ্দ ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোট: আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দুই দফার ভোট।
ফল প্রকাশ: ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বের হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে ৬ মে।
কবে খুলবে স্কুল? ৪ মে সোমবার রেজাল্ট আউটের পর ৬ মে বুধবার পর্যন্ত স্কুল খোলা কার্যত অসম্ভব। সেক্ষেত্রে মাঝের ২-৩ দিনের জন্য স্কুল না খুলে সরাসরি গরমের ছুটি দিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে।
প্রবল গরম ও আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা
গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে রাজ্যে প্রবল গরম পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেক সময়ই সরকার ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এবারও যদি গরম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে ভোট মেটার পর আর স্কুল নাও খুলতে পারে। সেক্ষেত্রে লম্বা ছুটির মুখে পড়তে পারে বাংলার পড়ুয়ারা।
অভিভাবক ও পড়ুয়াদের দুশ্চিন্তা
ছুটি এগিয়ে আসা বা লম্বা হওয়া নিয়ে পর্ষদ এখনও কোনো চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। তবে যে স্কুলগুলিতে বাহিনী রয়েছে, সেই স্কুল কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা। তবে শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি বুঝে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পড়ুয়াদের জন্য টিপস: যদি গরমের ছুটি লম্বা হয়, তবে সময় নষ্ট না করে সাঁতার শেখা বা বিভিন্ন সামার ক্যাম্পে যোগ দিয়ে নতুন কিছু শেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





