২০২১-এর লজ্জা মুছতে নয়া অস্ত্র! সেনার গাড়িতে জিপিএস আর বুথে AI ক্যামেরা—ভোট লুঠ রুখতে মোক্ষম চাল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট লুঠ ও অশান্তি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২১ সালের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রযুক্তির এক অভেদ্য ‘সুরক্ষা কবজ’ তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ডিং না থাকার পুরনো অজুহাত এবার আর খাটবে না—কারণ খোদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাই এবার ফিরবেন ‘বডি ক্যামেরা’ পরে।

জওয়ানদের শরীরে ক্যামেরা: এক মিনিটও নজর এড়াবে না

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো মাইক্রো অবজার্ভার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা লাগানো। মাঠের প্রতিটি ছোটখাটো ঘটনা, ভোটারদের লাইন থেকে শুরু করে বুথের ভেতরকার পরিস্থিতি—সবই মিনিট-টু-মিনিট রেকর্ড হবে। কমিশনের সাফ কথা:

  • সামান্যতম হিংসা বা অনিয়ম দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

  • প্রয়োজনে যতবার দরকার, ততবার রিপোলিং বা পুনর্নির্বাচন হবে।

গাড়িতে জিপিএস আর AI-এর নজরদারি

পুরনো নির্বাচনে অভিযোগ উঠেছিল যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রয়োজনের সময় সঠিক জায়গায় পাওয়া যায়নি। সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবার:

  • জিপিএস ট্র্যাকার: সিএপিএফ-এর কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস লাগানো হয়েছে। দিল্লি থেকে পর্যবেক্ষকরা রিয়েল টাইমে দেখবেন বাহিনী ঠিক কোথায় রয়েছে।

  • এআই (AI) নজরদারি: সংবেদনশীল বুথে ৩টি এবং সাধারণ বুথে ২টি করে ক্যামেরা থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে মনিটরিং করা হবে। কোনো ক্যামেরা হঠাৎ বন্ধ হলে বা সন্দেহজনক জমায়েত দেখলে অটোমেটিক অ্যালার্ট পৌঁছে যাবে কন্ট্রোল রুমে।

রাজ্য পুলিশের ক্যামেরা এবার কমিশনের হাতে

রাজ্যের সমস্ত সরকারি সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এবার সরাসরি নিজেদের হাতে নিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, ভোট চলাকালীন রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে কী ঘটছে, তার সবটাই সরাসরি দেখবে কমিশন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy