মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতীয়দের রান্নাঘরে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিঘ্নিত হয়েছে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain)। যার জেরে মার্চ মাসে ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) ব্যবহারে রেকর্ড ১৩ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে।
কেন এই গ্যাসের আকাল?
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই আমদানির সিংহভাগই আসে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে। কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়:
হরমুজ প্রণালীতে জট: ইরান ও ইজরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরবরাহে ঘাটতি: সমুদ্রপথ ও আকাশপথ দুইই যুদ্ধের কারণে প্রভাবিত হওয়ায় ভারতে সিলিন্ডার আসার গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্যাসে বড় কোপ
ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সরকার এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বড় শিল্পকারখানার মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য বলছে: মার্চ মাসে অনাবাসিক বা বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস বিক্রি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমেছে। পাইকারি বিক্রি কমেছে অবিশ্বাস্য ৭৫.৫ শতাংশ।
উৎপাদন বাড়াতে যুদ্ধের তৎপরতা
তেল মন্ত্রকের অধীনস্থ পিপিএসি (PPAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘাটতি সামাল দিতে পেট্রোকেমিক্যাল তৈরির কাঁচামাল সরিয়ে নিয়ে তা এলপিজি উৎপাদনে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শোধনাগারগুলিকে। এর ফলে দেশীয় উৎপাদন মার্চ মাসে ১.১ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ১.৪ মিলিয়ন টন হয়েছে।
পেট্রোল-ডিজেলে উল্টো চিত্র
রান্নার গ্যাস এবং বিমান জ্বালানির (ATF) ব্যবহারে মন্দা দেখা দিলেও পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী।
পেট্রোল: বিক্রি বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।
ডিজেল: ব্যবহার বেড়েছে ৮.১ শতাংশ।





