ভারতীয় আকাশসীমা রক্ষায় এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বায়ুসেনা (IAF)। ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র ‘সুখোই-৩০ এমকেআই’ (Sukhoi-30 MKI) যুদ্ধবিমানকে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় মিসাইল এবং মিসাইল লঞ্চারে সজ্জিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মূলত বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের গতি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ।
কেন দেশীয় অস্ত্রের প্রয়োজন?
দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার তৈরি এই সুখোই যুদ্ধবিমানগুলি বিদেশি প্রযুক্তির মিসাইল এবং লঞ্চারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বায়ুসেনা চাইছে:
তৎক্ষণাৎ সরবরাহ: যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিদেশি সাহায্যের জন্য অপেক্ষা না করে দেশীয় অস্ত্র ভাণ্ডার ব্যবহার করা।
সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন: ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলগুলি সুখোইয়ের সিস্টেমে আরও দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সংহত (Integrate) করা সম্ভব।
খরচ হ্রাস: বিদেশি অস্ত্র আমদানির বিপুল খরচ কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙ্গা করা।
লক্ষ্যে ‘অস্ত্র’ ও ‘ব্রাহ্মস’
বায়ুসেনা সূত্রে খবর, সুখোইয়ের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ মিসাইল এবং ‘ব্রাহ্মস’ (Brahmos)-এর উন্নত সংস্করণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় লঞ্চার ব্যবহারের ফলে যুদ্ধবিমানটি আরও হালকা ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষায় নতুন দিগন্ত
ইতিমধ্যেই হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) এবং ডিআরডিও (DRDO) এই দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক তৈরির কাজ শুরু করেছে। বায়ুসেনার এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারত বিশ্বের সেই হাতেগোনা দেশগুলির তালিকায় জায়গা করে নেবে, যারা সুপারসনিক যুদ্ধবিমানে নিজস্ব লঞ্চার ও মিসাইল ব্যবহার করে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সুখোইয়ের এই ‘দেশি ভোলবদল’ শত্রুপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, কারণ ভারতীয় মিসাইলগুলির নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা।





