বলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলেই এখন শোনা যায় ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপোষণের বিতর্ক। তারকা সন্তানদের ক্যারিয়ার যেখানে এক চুটকিতে তৈরি হয়ে যায়, সেখানে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর ছোট ছেলে নমাশি চক্রবর্তীকে নিয়ে কেন সেই অর্থে মাতামাতি হয় না মায়ানগরীতে? কেন তিনি তথাকথিত ‘স্টারকিড’ মহলের লাইমলাইট থেকে অনেকটা দূরে? সম্প্রতি নিজের আসন্ন ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর প্রচারে এসে এই নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ নমাশি।
মুম্বই নয়, শৈশব কেটেছিল পাহাড়ের কোলে
নমাশির কথায়, তাঁর প্রচারের আলোয় না আসার পেছনে কোনও ফিল্মি চক্রান্ত নয়, বরং ছিল এক বড় ভৌগোলিক দূরত্ব। তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে তাঁর বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখনই মিঠুন চক্রবর্তী সপরিবারে মুম্বই ছেড়ে তামিলনাড়ুর উটিতে (Ooty) চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে মহাগুরু তাঁর নিজস্ব হোটেলের ব্যবসা এবং ফিল্মি জগত গুছিয়ে নিয়েছিলেন।
নমাশি বলেন, “বাকি স্টারকিডরা যখন মুম্বইয়ের জৌলুস আর গ্ল্যামারাস পার্টি সার্কিটে বড় হচ্ছিল, তখন আমরা মুম্বই থেকে শতহস্ত দূরে উটির শান্ত পরিবেশে বড় হয়েছি। ফলে বলিউডের ভেতরের জগতের সঙ্গে সেই পরিচিতি বা নেটওয়ার্কিং আমাদের কখনওই হয়ে ওঠেনি।”
স্বজনপোষণ বিতর্কে ভিন্ন অবস্থান
বলিউডের স্টারকিড হওয়া সত্ত্বেও নমাশির যাত্রাটা কিন্তু আর পাঁচজনের মতো মসৃণ ছিল না। গ্ল্যামারাস লাইফস্টাইল থেকে দূরে থাকায় তাঁর ছোটবেলাটা ছিল সাধারণের মতো। তাঁর দাবি, বলিউডের অন্দরমহলে মিশতে না পারাটাই হয়তো তাঁর প্রচারের আড়ালে থাকার প্রধান কারণ। তবে তিনি মনে করেন, দিনশেষে অভিনয় দক্ষতা দিয়েই টিকে থাকতে হবে।
নতুন ইনিংস: ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’
বর্তমানে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নমাশির নতুন ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় ইতিমধ্যেই সমালোচকদের নজর কেড়েছে। বাবার স্টারডমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করে, নমাশি নিজের যোগ্যতায় ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে মরিয়া। তাঁর শরীরী ভাষাই বলে দিচ্ছে, গ্ল্যামারের চাকচিক্য নয়, বরং অভিনয়ের জাত চিনিয়েই তিনি মহাগুরুর সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।





