অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করলেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। আর এবারের ফলাফলে সবাইকে চমকে দিয়ে রাজ্যসেরার মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ। ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। শতাংশের বিচারে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর অবিশ্বাস্য ৯৯.৭১%।
অঙ্ক থেকে জীবনবিজ্ঞান— সর্বত্রই ১০০-তে ১০০!
অভিরূপের রেজাল্ট কার্ড দেখলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। বাংলার এই কৃতি সন্তান মোট সাতটি বিষয়ের মধ্যে ছ’টি বিষয়ের প্রত্যেকটিতেই পূর্ণমান অর্থাৎ ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়েছে। বাংলা, অঙ্ক, ভৌত বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং ভূগোল— প্রতিটি খাতা থেকেই ফুল মার্কস আদায় করে নিয়েছে সে। মাত্র ২ নম্বর কাটা গিয়েছে কেবল ইংরেজিতে। সেখানে অভিরূপ পেয়েছে ৯৮ নম্বর। তাঁর ওভারঅল গ্রেড ‘AA’।
রুটিন নয়, টার্গেটই ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি
প্রথম হওয়ার খবর পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত অভিরূপ সাংবাদিকদের জানায়, “ফল ভালো হবে জানতাম, কিন্তু একেবারে প্রথম হবো সেটা ভাবিনি।” প্রথাগতভাবে ঘড়ি ধরে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পড়ার পক্ষপাতী সে নয়। তাঁর কথায়, “আমার পড়াশোনার বাঁধাধরা কোনও সময় ছিল না। আগের রাতে ঠিক করে রাখতাম পরের দিন কোন কোন বিষয়গুলো পড়ব। সেই টার্গেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি পড়া থামাতাম না।” ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে জয়েন্ট এন্ট্রাস (JE) পরীক্ষায় সফল হওয়া এবং ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মাধ্যমিকের এই ফার্স্টবয়।
সিঙ্গেল মাদার-এর লড়াইকে কুর্নিশ
অভিরূপের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামের কাহিনী। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র পৃথিবী। আবেগঘন কণ্ঠে অভিরূপ বলে, “আমার বাবা নেই। মা অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করে আমায় বড় করেছেন। আমার সব আবদার মেটানো থেকে শুরু করে পড়াশোনার গাইড— মা-ই সব করেছেন। যখন যা চেয়েছি, মা তাই দিয়েছেন।”
নিজের সাফল্যের জন্য ৯ জন গৃহশিক্ষক এবং স্কুলের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে অভিরূপ। সে জানায়, স্কুলে প্রতি মাসে হওয়া মক টেস্ট এবং পরীক্ষার আগের স্ট্রেস রিলিফ সেমিনারগুলো তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করেছে।
রায়গঞ্জের অলিগলি থেকে আজ শুরু হয়েছে জয়ের উৎসব। মায়ের লড়াই আর ছেলের জেদ— এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আজ রচিত হলো বাংলার নতুন ইতিহাস।





