দিঘার তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে অকালপ্রয়াণ ঘটেছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রিয় অভিনেতার নিথর দেহ সোমবার বিজয়গড়ের বাড়িতে পৌঁছাতেই উপচে পড়ে অনুরাগীদের ভিড়। টলিপাড়ার প্রায় সব পরিচিত মুখকে সেখানে দেখা গেলেও, দেখা মেলেনি সঞ্চালক ও অভিনেতা মীর আফসার আলির। কেন পরম বন্ধুর শেষযাত্রায় সামিল হলেন না তিনি? নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো বিস্ফোরক পোস্ট করে তার কারণ স্পষ্ট করলেন মীর।
“ঘেন্নায় বেরোলাম না”: মীরের ফেসবুক পোস্ট
রাহুলের অকাল প্রয়াণে মীর যে কতটা মর্মাহত, তা তাঁর লেখায় স্পষ্ট। কিন্তু অভিনেতার বাড়ির সামনের পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিরক্ত যে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার ইচ্ছেই হারিয়ে ফেলেন। মীরের মতে, একজন গুণী শিল্পীর মৃত্যু নিয়ে যা চলছে, তা আদতে ‘সার্কাস’। তাঁর পোস্টের ৩টি পয়েন্ট এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল:
-
রাজনৈতিক হ্যাংলামি: মীর লিখেছেন, গুণী ব্যক্তির মরদেহ ঘিরে রাজনৈতিক মাথা এবং তাঁদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের চেনা ‘হ্যাংলামি’ দেখা যাচ্ছে।
-
বাড়ির সামনে সার্কাস: শিল্পীর বাড়ির সামনে জমায়েতকে ‘মাঝারি মাপের সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘অশেষ শ্রদ্ধা’ জানাতে মরিয়া কিছু আজব জনগণের ভিড় দেখেই তিনি আর বেরোননি।
-
ঝাপসা এক্সপার্ট কমেন্ট: কিছু স্বল্প পরিচিত কলাকুশলীদের রাহুলের অভিনয় নিয়ে ‘এক্সপার্ট কমেন্ট’ দেওয়াকেও বিঁধেছেন মীর।
শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক
উল্লেখ্য, সোমবার রাহুলের শববাহী গাড়ি ঘিরে বাম সমর্থক ও কর্মীদের স্লোগান এবং পদযাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। মীর সরাসরি নাম না নিলেও, তাঁর নিশানায় যে রাজনৈতিক দলগুলোই ছিল, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারোর। রাহুলের মতোই মীরও বরাবরই ঠোঁটকাটা বলে পরিচিত।
প্রিয় বন্ধুকে হারালেন মীর
রেডিও এবং পডকাস্টের সূত্রে রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পেশাদার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মীরের। তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ছবির শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে রাহুলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু। তবে শোকের আবহে যেভাবে রাজনীতি ও লোকদেখানো আবেগের প্রদর্শনী চলছে, তা দেখেই ঘরে বসে থাকা শ্রেয় বলে মনে করেছেন তিনি।