বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪৭ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ পেতে নিজের দুটি পা কেটে ফেলার এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। ৪৭ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ সার্জনের বিরুদ্ধে এই অকল্পনীয় অভিযোগ উঠেছে, যা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা এবং বিমা খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সার্জনের নাম ড. ক্রিস্টোফার মেইনস। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানসিক অবসাদ এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এমন চরম পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড. মেইনস ২০১৯ সালে বিমা কোম্পানিগুলোকে জানান যে, তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এরপর তিনি বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের অর্থ দাবি করেন। প্রাথমিকভাবে, বিমা কোম্পানিগুলো তার দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল।
তবে, পরবর্তীতে তাদের মনে সন্দেহ জাগে। বিমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা তদন্ত শুরু করে দেখতে পান যে, ড. মেইনসের আঘাতের ধরণ সাধারণ পা কাটার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আরও গভীর তদন্তে এক ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে: ড. মেইনস নিজেই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তার দুটি পা কেটে ফেলেছেন! এই জঘন্য কাজে তাকে একজন অপরিচিত ব্যক্তি সাহায্য করেছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর ড. মেইনসের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং বিমা জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনা যুক্তরাজ্যের বিমা কোম্পানিগুলোকে তাদের নীতিমালা এবং দাবি যাচাই প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য করেছে। দ্য টেলিগ্রাফের খবরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে, তেমনি বিমা জালিয়াতির অভিনব এবং চরম রূপকেও উন্মোচন করেছে।