ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘ভয়ঙ্কর’ মন্তব্য ঘিরে রণক্ষেত্র বঙ্গ রাজনীতি। আর সেই সূত্র ধরেই এবার সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার বীরভূমের এক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শাহের সাফ বার্তা, “বাংলায় বাবরি কাণ্ড বা কোনো সাম্প্রদায়িক অশান্তি হতে দেব না।”
কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি জনসভায় হুমায়ুন কবীর আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেছিলেন, “আমরা (সংখ্যালঘুরা) যদি একবার জেগে উঠি, তবে নদীর ওপাড়ে পাঠিয়ে দেব।” তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই সরব হয় বিজেপি। অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিজ দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
শাহের আক্রমণাত্মক প্রশ্ন:
এদিন জনসভা থেকে অমিত শাহ সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
মৌনতা কেন? “আপনার বিধায়ক যখন বিভেদের রাজনীতি করছেন, সংখ্যাগুরুদের হুমকি দিচ্ছেন, তখন আপনি এবং মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন? আপনাদের কি এটাই নীতি?”
বাবরি হবে না: “অনেকে ভাবছেন বাংলাকে অশান্ত করে মেরুকরণ করবেন। মনে রাখবেন, মোদী সরকার ক্ষমতায় আছে, বাংলায় আর কোনো বাবরি হবে না।”
আইন-শৃঙ্খলা: শাহ দাবি করেন, তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে উস্কানিমূলক মন্তব্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যার ফল সাধারণ মানুষকে ভুগতে হতে পারে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
বিজেপির এই অভিযোগকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত হতে পারে, দল কখনো কোনো সাম্প্রদায়িক উস্কানি সমর্থন করে না। উল্টে বিজেপি ধর্মের কার্ড খেলে বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে বলে পাল্টা তোপ দাগেন জোড়াফুল নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের মতে: হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য প্রথম দফার ভোটের আগে বিজেপিকে বড়সড় রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে, যা মেরুকরণের হাওয়ায় বাড়তি হাওয়া জোগাতে পারে।





