বিহারে সূচিত হলো এক নতুন রাজনৈতিক যুগের। দীর্ঘ টালবাহানা আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিহারের ২৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। বুধবার পাটনার লোক ভবনে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিহারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিজেপি নেতা এককভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনে বসলেন, যা ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড় বলে মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে হলো এই পালাবদল?
গত কয়েকদিন ধরেই বিহারের রাজনীতিতে অস্থিরতা চলছিল। মঙ্গলবার নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বিজেপির পরিষদীয় দল সর্বসম্মতিক্রমে সম্রাট চৌধুরীকে তাদের নেতা নির্বাচিত করে। জেডিইউ (JD-U)-এর সমর্থনে গঠিত এই নতুন এনডিএ (NDA) সরকারে সম্রাট চৌধুরীর ডেপুটি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব।
পাখির চোখ কি এবার বাংলা?
বিহারে বিজেপির এই বিশাল সাফল্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে—”বিহার তো হলো, এবার কি লক্ষ্য বাংলা?”
আক্রমণাত্মক মেজাজ: সম্রাট চৌধুরী বরাবরই তাঁর লড়াকু মেজাজের জন্য পরিচিত। বিহারের মতো রাজ্যে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে ওঠায় তাঁর প্রভাব প্রতিবেশী রাজ্য বাংলাতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিহারের এই ‘সফল মডেল’ প্রয়োগ করতে পারে। বিশেষ করে হিন্দিভাষী এবং ওবিসি (OBC) ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে সম্রাট চৌধুরীর উত্থান বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাটের প্রথম বার্তা
শপথ নেওয়ার পরেই দপ্তরে বসে প্রথম ফাইলে সই করেছেন সম্রাট চৌধুরী। তাঁর প্রথম নির্দেশ— “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স”। তিনি সাফ জানিয়েছেন, নীতীশ কুমারের অভিজ্ঞতা এবং তাঁরুণ্যের শক্তি মিলে বিহারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: নীতীশ কুমারের দুই দশকের দাপট সরিয়ে সম্রাটের অভিষেক আদতে বিহারে বিজেপির পূর্ণ আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, এই শাহী চাল বাংলার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে।





