শুভ নববর্ষ ১৪৩৩! তপ্ত রোদেও ফিকে নয় বাঙালির আবেগ, হালখাতা আর ইলিশ-মাংসে মজেছে বাংলা

আজ পয়লা বৈশাখ। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে শুরু হলো বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩। চৈত্র শেষের তপ্ত দহনকে উপেক্ষা করেই আজ মেতে উঠেছে আপামর বাঙালি। শহর থেকে গ্রাম—নতুন পোশাক, হালখাতা আর জিভে জল আনা ‘পেটপুজো’র আমেজে ভেসে যাচ্ছে গোটা বাংলা।

মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ঢল

নববর্ষের শুভ সূচনায় এদিন সাতসকাল থেকেই কলকাতার কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর এবং বেলুর মঠে ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো। নতুন খাতার ওপর সিঁদুরের স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে ব্যবসায়ীরা শুরু করেছেন চিরাচরিত ‘হালখাতা’। দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে আগামী এক বছরের শ্রীবৃদ্ধির কামনায় সামিল হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।

পাতে কী আছে? জমজমাট ভোজ

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর উৎসব মানেই তো কবজি ডুবিয়ে খাওয়া। আজ শহরের বড় বড় রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বাঙালির হেঁশেল—সবই জমজমাট।

  • ইলিশের রূপোলি চমক: চড়া দাম সত্ত্বেও বাঙালির পাতে জায়গা করে নিয়েছে ইলিশ ভাপা বা সর্ষে ইলিশ।

  • কচি পাঁঠার ঝোল: নববর্ষের দুপুরে লাল লাল খাসির মাংস ছাড়া বাঙালির খাওয়া যেন অসম্পূর্ণ।

  • মিষ্টিমুখ: রকমারি সন্দেশ আর রসগোল্লায় মজেছে মিষ্টিপ্রেমী বাংলা।

সাংস্কৃতিক উদযাপন

কলকাতার রাজপথে সকালে বেরিয়েছে বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি। রবীন্দ্রসঙ্গীত আর লোকগানের সুরে নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছেন শিল্পীরা। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা—পার্ক, মিউজিয়াম এবং সিনেমা হলগুলোতে ভিড় আজ চোখে পড়ার মতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে শুভেচ্ছার জোয়ার, ‘শুভ নববর্ষ’ বার্তায় ভরে উঠেছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম।

বিশেষ আবহ: বছরের প্রথম দিনটিতে নতুন ব্যবসায়িক লেনদেনের পাশাপাশি পুরনো তিক্ততা ভুলে মিলন উৎসবে মেতে ওঠাই হলো পয়লা বৈশাখের মূল মন্ত্র।