বিজেপির জয়েই বদলে গেল সুর, ২৪ ঘণ্টার চরম সময়সীমা দিল ঘাসফুল শিবির

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘তাসের ঘর’-এর মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের অন্দরমহল। ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি মসনদে বসতেই ঘাসফুল শিবিরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বিদ্রোহ। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গিয়েছে যে, দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় পাঁচ হেভিওয়েট মুখপাত্রকে তড়িঘড়ি শোকজ করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি।

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: কারা আছেন তালিকায়?

বিপর্যস্ত ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের একাংশ নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করার দায়ে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির প্রধান ডেরেক ও’ব্রায়েন শোকজ করেছেন— কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে। তাঁদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কেন শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব দিতে হবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

বিস্ফোরক ঋজু দত্ত: চাইলেন ক্ষমাও!

শোকজ পাওয়া নেতাদের মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে ঋজু দত্তকে নিয়ে। একসময়ের কট্টর বিজেপি-বিরোধী এই মুখপাত্রের গলায় এখন উল্টো সুর। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে বিজেপির রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি। ঋজুর এই ভোলবদল তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

লক্ষ্য যখন অভিষেক ও আইপ্যাক

নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে বরিষ্ঠ বনাম নবীন লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। দলের একাংশ নেতা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট কালচার’ এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ওপর হারের দায় চাপাচ্ছেন। প্রাক্তন বিধায়ক ও মুখপাত্রদের অভিযোগ, মাটির রাজনীতির বদলে ডেটা-নির্ভর রাজনীতিই ডুবিয়েছে দলকে।

রাজনীতি ছাড়ছেন রাজ-মনোজরা?

দলের এই শোচনীয় অবস্থায় কেবল মুখপাত্ররাই নন, ভাঙন ধরেছে তারকা প্রার্থীদের মধ্যেও। খবর চাউর হয়েছে যে, পরিচালক তথা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী এবং মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছেন। পরাজয়ের গ্লানি ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সব মিলিয়ে, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বাংলায় তৃণমূলের ঘর গোছানো এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। শোকজের জবাবে এই পাঁচ নেতা কী বলেন, কিংবা রাজ-মনোজদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হয়— এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy