বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শাসক শিবিরের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবার সুর চড়ালেন বিরোধী শিবিরের নেত্রী কেয়া ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে রীতিমতো তোপ দেগেছেন তিনি।
আক্রমণের কেন্দ্রে ‘চেয়ার’ নির্বাচনী ময়দানে কার্যত বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পরও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেয়া ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নৈতিকভাবে তৃণমূল নেত্রীর আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তাঁর মতে, মানুষ যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন চেয়ার আঁকড়ে থাকার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
তীব্র কটাক্ষ ও রাজনৈতিক চাপ কেয়া ঘোষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “নির্বাচনী ফলাফলের পর জনমত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ধরাশায়ী হওয়ার পরও কেন এই কুর্সি-প্রেম?” তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধীরা যে শাসক দলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, কেয়া ঘোষের এই কড়া আক্রমণ তারই ইঙ্গিতবাহী।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া যদিও কেয়া ঘোষের এই আক্রমণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনেই সরকার পরিচালিত হয় এবং বিরোধীদের কাজই হলো অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে প্রচারে থাকা। তবে নির্বাচনের পর কেয়া ঘোষের এই সরাসরি আক্রমণ বর্তমান রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শহর থেকে জেলা, এখন সব মহলেই আলোচনার কেন্দ্রে— কেয়া ঘোষের এই চ্যালেঞ্জের জবাব শাসক দল রাজপথে দেয় না কি প্রশাসনিকভাবে, সেটাই দেখার।





