দীর্ঘ এক মাস ধরে মাটির অভাবে ধুঁকছে কুমোরটুলি। মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র এই কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, একাধিক প্রতিমার বায়না ইতিমধ্যেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। পুজোর মুখে এই পরিস্থিতি শিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কেন এই সংকট? মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্মকর্তাদের দাবি, কুমোরটুলিতে মাটির জোগান মূলত আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে। আগে জলপথে নৌকায় করে নিয়মিত মাটি এলেও, বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, বিষ্ণুপুর, আমতলা ও ক্যানিংসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাটি আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেন এই সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এর ফলে কুমোরটুলির উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শিল্পীদের অসহায় অবস্থা মৃৎশিল্পী বাবু পাল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো প্রতিমার অর্ডার নেওয়া তাঁদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে না পারলে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির পাশাপাশি আইনি জটিলতারও আশঙ্কা থাকে। তাই বাধ্য হয়েই নতুন বায়না নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন তাঁরা। এভাবে চললে মৃৎশিল্পীরা যেমন চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, তেমনই দীর্ঘমেয়াদী জীবিকার ওপরও বড় আঘাত আসবে।
প্রশাসনের দ্বারস্থ মৃৎশিল্পীরা সমস্যা সমাধানে মৃৎশিল্পী সংগঠন ইতিমধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে ই-মেল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার থানা ও ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরকেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিল্পীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? পুজোর মরশুমের ঠিক আগে কুমোরটুলির এই সংকট শুধু শিল্পীদের নয়, বাংলার উৎসবের ঐতিহ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মাটি পরিবহনের পথ সুগম না করা গেলে, বহু দুর্গোৎসব বা অন্যান্য পুজোর আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এখন দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কুমোরটুলির স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মৃৎশিল্পীরা।





