দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুন ও মানব পাচারের যোগসূত্র, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজ। তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা রীতিমতো শিহরিত করার মতো। পুলিশ সন্দেহ করছে, লাভকেশ বাজাজ কেবল একজন হোটেল ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য।

তদন্তে জানা গেছে, মেডিকেল ট্যুরিজমের আড়ালে লাভকেশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে আসছিলেন। গত বছর পাহাড়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি অবৈধ বিদেশিদের জন্য জাল পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত নথিপত্র তৈরি করে দিতেন। সুইটি সরকার ও তার মেয়ে পুষ্পো নামের দুই বাংলাদেশি মহিলাকে ছাতারপুর এনক্লেভে নিজের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করতে দিয়ে জাল নথিপত্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন লাভকেশ। ওই দুই মহিলা ভারতে নিজেদের পরিচয় লুকাতে একাধিক ভুয়া নাম ও পদবি ব্যবহার করতেন।

বর্তমানে দক্ষিণ জেলা পুলিশ লাভকেশ বাজাজের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তার এই মানব পাচারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ তার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিটেইল রেকর্ড (IPDR) বিশ্লেষণ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সন্দেহভাজনদেরও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ লাভকেশের মাধ্যমে কতজন বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং তাদের অবস্থান কোথায়, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy