ভারতের আমের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে, কিন্তু সেই গর্বেই এবার বড়সড় ধাক্কা দিল জাপান। গত ২০ বছর পর আবারও ভারত থেকে আম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল টোকিও। জাপানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভারতীয় আম প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় (Treatment Facility) বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রিমিয়াম মানের আম রফতানি নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা? জাপানের ‘ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন’-এর দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ মার্চের পর থেকে ভারত থেকে পাঠানো কোনো আমই তারা গ্রহণ করবে না। এমনকি গুণমান পরীক্ষার শংসাপত্র (Quality Certificate) থাকলেও জাপানি কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জাপানের কোয়ারেন্টাইন আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত ভারতীয় ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করে। সেখানেই ফিউমিগেশন (Fumigation) ও আম জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। মূলত আমের গুণমান ও সুরক্ষা নিয়ে জাপানের কঠোর নিয়মের সঙ্গে আপস করতে নারাজ সে দেশের সরকার।
কীভাবে কাজ করে এই প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক বাজারে আম রফতানির জন্য ভারত ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) পদ্ধতি ব্যবহার করে। ২০০৭ সালে তিরুপতিতে প্রথম এই আধুনিক প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। জাপানের বাজার ধরার জন্যই ভারত বহু বছর আগে থেকেই এই উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করেছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতদিন এই প্রক্রিয়া মেনেই তারা জাপানে আম রফতানি করে আসছিলেন। বর্তমানে গোটা সিস্টেমের ওপর জাপানের এই অনাস্থা তাই রফতানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভারতের বাণিজ্যে কতটা প্রভাব? জাপান হয়তো ভারতের আমের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার নয়, কিন্তু এটি ‘প্রিমিয়াম’ ক্যাটেগরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক বাজার। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর ভারত প্রায় ২০ লক্ষ ডলার মূল্যের আম জাপানে রফতানি করেছিল, যার একটি বড় অংশ ছিল গুজরাতের বিখ্যাত ‘কেশর’ আম। এছাড়া আলফান্সো ও ল্যাংড়া আমের মতো জনপ্রিয় জাতগুলিও জাপানে ভালো চাহিদা পায়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আয়েও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপের অপেক্ষায়: ভারতীয় রফতানিকারকদের একাংশের মতে, জাপান ও ভারতের গুণমান পরীক্ষার প্রক্রিয়ার মধ্যে যে সামঞ্জস্যের অভাব তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে মেটানো জরুরি। কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলি দ্রুত সংশোধন করে জাপানকে পুনরায় আশ্বস্ত করতে না পারলে, এই রফতানি বাজার পুরোপুরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত।





