রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম এক অন্যরকম ঈদ দেখল কলকাতা। প্রতি বছর রেড রোড আটকে ঈদের নমাজ পাঠের যে চেনা ছবি শহরবাসী দেখতেন, এবার তা পুরোপুরি বদলে গেল। যানজটহীন ও সুশৃঙ্খল ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে এবার শহরের প্রধান এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হলো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ বছরের প্রথা ভেঙে শহরজুড়ে এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনজীবনে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পরেই শহরের যান চলাচল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেড রোড, যা কলকাতার প্রধান লাইফলাইন, তাকে যানজটমুক্ত রাখতে এবারই প্রথম ব্রিগেডকে বেছে নেওয়া হলো নমাজ পাঠের স্থান হিসেবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রথমদিকে জনমনে কিছুটা কৌতূহল থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক বদল প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। জনজীবন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই পদক্ষেপ। উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যেভাবে মানুষ জড়ো হয়ে প্রার্থনা সেরেছেন, তা এক সুষ্ঠু ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার উদাহরণ।” তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল যানজটহীন চলাচলের। প্রশাসন সেই চাহিদাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল যানজট নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও প্রতিফলন দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের ফলে শহরের বড় কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে যে অস্বস্তি বা ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা তৈরির ভয় থাকত, তা এবার কাটানো সম্ভব হয়েছে। ঈদের নমাজ উপলক্ষ্যে ব্রিগেড চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ছিল সুশৃঙ্খল প্যান্ডেল ও পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা। মানুষ কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষে গন্তব্যে ফিরে যেতে পেরেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে রেড রোডকে কেন্দ্র করে যে ট্রাফিক পরিকল্পনা চলত, তার ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এবার তা ব্রিগেড গ্রাউন্ডে সরিয়ে আনায় উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ট্রাফিকের গতি স্বাভাবিক ছিল। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক এই সাফল্য এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, মানুষের সুবিধা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো প্রথাই অমোঘ নয়। পরিবর্তনের এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী শাসকদল।





