বিবাহিত জীবনে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর অনেক পুরুষই নতুন কোনো সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কেন এক ছাদের নিচে থেকেও অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়? সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বিবাহিত পুরুষদের পরকীয়া প্রেমের ঝোঁক নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক ও মনস্তাত্ত্বিক তথ্য। গবেষকরা দাবি করছেন, পরকীয়ার পেছনে কেবল শরীরী আকর্ষণ নয়, বরং মানসিক ও সামাজিক একাধিক কারণ দায়ী।
সমীক্ষায় উঠে আসা প্রধান কারণসমূহ:
একঘেয়েমি ও রোমাঞ্চের অভাব: দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় রোমান্স হারিয়ে যায় এবং জীবনের প্রতিটি দিন একই ছন্দে চলতে থাকে। এই একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে এবং জীবনে নতুন কোনো রোমাঞ্চ বা ‘থ্রিল’ অনুভব করতে অনেক পুরুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
মানসিক নিঃসঙ্গতা: অনেক পুরুষ মনে করেন, কর্মব্যস্ত জীবনের চাপ বা মানসিক টানাপোড়েন তাদের জীবনসঙ্গিনী ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। এই মানসিক শূন্যতা পূরণ করতে তারা বাইরের কারও সাথে আবেগ ভাগ করে নিতে চান।
প্রশংসার আকাঙ্ক্ষা: বিবাহিত জীবনে অনেক সময় ছোট ছোট সাফল্য বা ব্যক্তিত্বের প্রশংসা পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অন্য কারও কাছ থেকে মনোযোগ বা গুরুত্ব পাওয়ার ইচ্ছা পুরুষদের পরকীয়ায় উৎসাহিত করে।
সংকটময় মধ্য বয়স (Mid-life Crisis): ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে অনেক পুরুষ নিজেদের তারুণ্য ফিরে পেতে চান। এই সময় তারা নিজেদের ‘যোগ্যতা’ প্রমাণ করতে নতুন প্রেমে জড়াতে পছন্দ করেন।
যোগাযোগের অভাব: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুস্থ কথোপকথনের অভাব এবং নিয়মিত ঝগড়া বা অশান্তি পুরুষদের বাইরের সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মত:
সমীক্ষায় দেখা গেছে, পরকীয়া মানেই সবসময় বিবাহবিচ্ছেদ নয়। অনেকে নিজের বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেই এই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের স্বাদ নিতে চান। তবে গবেষকদের মতে, সঙ্গীর সাথে খোলামেলা আলোচনা এবং নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় রাখলে এই প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।





