২৫ বছর বয়সেই মুখে বুড়োটে ভাব? লুকিয়ে প্রতিদিন এই ভুলটি করছেন না তো? যা বলছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা!

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি ফুসফুসের ক্যানসার থেকে শুরু করে হৃদ্‌রোগের কারণ হতে পারে— এ তথ্য আমাদের সবারই জানা। কিন্তু আপনি কি জানেন, তামাকের এই মারণ ছোবল কেবল শরীরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না? এটি আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে! বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত ধূমপানের ফলে মানুষ অকালেই বুড়িয়ে যায় এবং তাঁর ত্বক ও চুলের এমন মারাত্মক ক্ষতি হয় যা কোনো নামী কসমেটিক্স বা স্কিন কেয়ার ট্রিটমেন্ট দিয়েও আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

আপনি যদি নিজের তারুণ্য ধরে রাখতে চান, তবে ধূমপান আপনার ত্বকের কী কী চরম ক্ষতি করছে তা আজই জেনে নিন:

১. অকাল বার্ধক্য এবং চোখের নিচে বলিরেখা (Wrinkles)
সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখার প্রধান দুটি প্রোটিন— কোলাজেন (Collagen) ও ইলাস্টিন (Elastin)-কে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এর ওপর নিকোটিনের প্রভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে ত্বকে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না। ফলস্বরূপ, খুব অল্প বয়সেই চোখের কোণে ও ঠোঁটের চারপাশে গভীর বলিরেখা বা ভাঁজ পড়ে যায়, যা আপনার আসল বয়সের চেয়ে আপনাকে অনেক বেশি বয়স্ক দেখায়।

২. ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা উধাও ও কালচে দাগ
রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ত্বক তার প্রাকৃতিক লাবণ্য হারিয়ে নিস্তেজ, ফ্যাকাশে বা ধূসর বর্ণ ধারণ করে। অনেক ধূমপায়ীর মুখ ও ঠোঁটে কালচে ছোপ বা হাইপারপিগমেন্টেশন (Hyperpigmentation) দেখা যায়, যা তাঁদের চেহারার শ্রী কেড়ে নেয়।

৩. মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়া ও অকালে চুল পেকে যাওয়া
তামাকের বিষাক্ত থাবা থেকে রেহাই পায় না আপনার সাধের চুলও। ধূমপানের কারণে চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল ও পুষ্টির জোগান এক ধাক্কায় কমে যায়। ফলে চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যায়, অকালে পেকে সাদা হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা বহুগুণ বেড়ে গিয়ে মাথায় টাক পড়তে শুরু করে।

৪. ক্ষত শুকাতে দেরি ও স্থায়ী দাগের ঝুঁকি
রক্ত প্রবাহ ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ধূমপায়ীদের শরীরে যেকোনো সাধারণ কেটে যাওয়া, আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ক্ষত শুকাতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। শুধু তাই নয়, ক্ষত শুকানোর পর সেখানে হাইপারট্রফিক বা স্থায়ী কালচে দাগ থেকে যাওয়ার প্রবণতাও ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি।

🚨 সবচেয়ে বড় বিপদ: ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি!
বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি ধূমপান কিন্তু সরাসরি স্কিন ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি-র মতে, তামাকের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর কার্সিনোজেন উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার (Squamous Cell Carcinoma) মতো ভয়ংকর ত্বকের ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীর আর লড়াই করতে পারে না। ফলে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি থাকে।

সম্পাদকের শেষ কথা: সুন্দর ও নিখুঁত ত্বক এবং একমাথা স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে আমরা কতই না দামী প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। কিন্তু যদি প্রতিদিন ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া ঢুকতে থাকে, তবে সমস্ত চেষ্টাই বৃথা। তাই সুস্থ শরীরের পাশাপাশি নিজের তারুণ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে আজই ধূমপানকে চিরতরে ‘আলবিদা’ বলুন!