বৈবাহিক কলহ: বয়স কি শুধুই একটি সংখ্যা নাকি সাফল্যের চাবিকাঠি?

দাম্পত্য কলহ প্রতিটি সংসারে কমবেশি দেখা যায়। তবে কিছু পরিবারে এর প্রকোপ এতটাই বেশি যে তা অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম দেয়। কিন্তু এর কারণ কি কেবলই সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি, নাকি বয়সের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিয়ের সঠিক বয়স না হলে সংসারে অশান্তির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও বিয়ের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, সম্পর্ক কতটা সফল হবে তা নির্ভর করে সঙ্গী-সঙ্গিনীর বোঝাপড়া এবং ঘনিষ্ঠতার ওপর।
সম্প্রতি গণিতবিদরা একটি ফর্মুলা আবিষ্কার করেছেন, যা বিয়ের জন্য সেরা বয়স নির্দেশ করে। টম গ্রিফিথস ও ব্রায়ান ক্রিশ্চিয়ান তাদের বই ‘অ্যালগরিদম টু লিভ বাই: দ্য কম্পিউটার সায়েন্স অব হিউম্যান ডিসিশনস’-এ এই ফর্মুলার কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের ফর্মুলা অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সে বিয়ে করলে সেই সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই বয়সের আগে যারা বিয়ে করেন, তাদের দাম্পত্য কলহও বেশি হয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
ফর্মুলার পেছনের যুক্তি
এই ফর্মুলার পেছনের যুক্তি বেশ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনার যদি ৪০ বছর বয়সের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকে, তাহলে সেই লক্ষ্যের ৩৭ শতাংশ পূরণ হয়ে গেলেই বিয়ে করা উচিত। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করার সঠিক সময়। টম ও ব্রায়ানের মতে, ২৬ বছরের আগে বিয়ে করলে দম্পতিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক লেগেই থাকে।
ভিন্ন মত ও নতুন গবেষণা
তবে অনেকেই এই তত্ত্বের সঙ্গে একমত নন। তাদের যুক্তি হলো, ২০ থেকে ৮০ বছর বয়সের মধ্যে মানুষের জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। ২৬ বছর বয়সের পরেও মানুষের পছন্দ-অপছন্দ বদলে যেতে পারে। তাই অন্য একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ২৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে বিয়ে করলে বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী হয়।
সব মিলিয়ে, বিয়ের বয়স নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক ভালোবাসা যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। আপনার কী মনে হয়, বিয়ের জন্য সঠিক বয়স বলে কিছু আছে?