ডায়াবেটিস: পুরুষদের চেয়ে নারীদের ঝুঁকি ও ক্ষতি বেশি, জানুন প্রতিরোধের উপায়!

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, এমনকি শিশুরাও এই রোগের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, যদিও পুরুষদের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, তবে নারীরা এই রোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ডায়াবেটিসের কারণে নারীদের শরীরে একে একে নানা ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়, যা তাদের সার্বিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

নারীদের কেন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি?
গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসের কারণে নারীদের হার্ট ডিজিজ, কিডনির অসুখ, অন্ধত্ব, অবসাদ এবং ইউটিআই (Urinary Tract Infection) এর মতো সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসের কারণে নারীদের মৃত্যুর ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মূলত, খাওয়াদাওয়া, জীবনযাত্রা এবং ওজনই এই রোগের মূল কারণ।

ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থেকে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে পিসিওএস (PCOS – Polycystic Ovary Syndrome), যৌনচাহিদা কমে যাওয়া, ভ্যাজিনাল ইচিং (যোনিপথে চুলকানি) এবং বারবার মূত্রত্যাগ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

এছাড়াও গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এমনকি বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম, মেনোপজের সমস্যাসহ নারী স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে ডায়াবেটিস হলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ ১ এবং টাইপ ২ – এই দু’ধরনের ডায়াবেটিসের সঙ্গেই ফার্টিলিটি (প্রজনন ক্ষমতা) কমে যাওয়ার সমস্যা জড়িত। এক্ষেত্রে সন্তান ধারণের বয়সে সুগার নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি, কারণ সুগার নিয়ন্ত্রণে না রাখলে মা ও শিশু দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শরীরে বিভিন্ন ইনফেকশনও দেখা দিতে পারে।

নারীরা ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন?
নারীরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলতে পারেন:

নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ: নিয়মিত ফল ও শাক-সবজি খান। আটা, বাদামি চালসহ ফাইবারজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে।
জাঙ্ক ফুড পরিহার: জাঙ্ক ফুডে হাত দেবেন না। তেল, ঝাল, মশলা জাতীয় খাবার কম খান। এতে আপনি ভালো থাকবেন।
ওজন স্বাভাবিক রাখুন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরচর্চা করতেই হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে ইনসুলিন ভালো কাজ করে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
নিয়মিত ওষুধ সেবন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত নিজের ওষুধ খান। ওষুধ আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
নিয়মিত চেকআপ: নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে চেকআপে থাকুন এবং তার পরামর্শ মেনে চলুন।
সুগার পরীক্ষা: নিয়মিত নিজের সুগার পরীক্ষা করুন এবং সেই মতো নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নিন।
মনে রাখবেন, সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি।