ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হল পড়ছেন? এই ঝাঁকুনি আসলে কী, জানুন!

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করেই মনে হল যেন আপনি পড়ে যাচ্ছেন। তড়িঘড়ি নিজেকে সামলাতে গিয়ে বুঝলেন, গোটা শরীরটা কেমন যেন একটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। হয়তো স্বপ্ন দেখছিলেন, আর সেই ঝাঁকুনিতেই স্বপ্নের জগৎ থেকে ফিরে এলেন বাস্তবে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘুমের ব্যাঘাত, তারপর আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়া।

এমন অভিজ্ঞতা এর আগে আপনার না হলেও, এমন বহু মানুষ আছেন যারা ঘুমের মধ্যে এই ধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করেন। একবার বা একদিন নয়, ঘনঘনও ঘটতে পারে এটি। ঘুম ভাঙলে কারও মনে থাকে, আবার কেউ রাতের সেই অদ্ভুতুড়ে ঘটনা বেমালুম ভুলে যান। ঘুমের মধ্যে কেন এমন হয়, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল জেগেছে।

বিজ্ঞানীরা এই ঝাঁকুনি বা হেঁচকাকে বলছেন ‘হিপনিক জার্ক’। এই হিপনিক জার্ক নিয়ে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেকরকম হলেও, একটি বিষয়ে সকলের অভিজ্ঞতা একই – মনে হয় যেন কেউ পড়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই হিপনিক জার্কের কিছু বাহ্যিক কারণ থাকতে পারে। তারা বলছেন, ক্যাফেইন ও তামাকের নেশা এই ধরনের ঝাঁকুনি বাড়িয়ে দেয়। তাই গবেষকদের পরামর্শ, ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। তাদের আরও দাবি, অ্যাডেরাল ও রিটালিনের মতো কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমনটা হতে পারে।

এই হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের প্রথম ধাপে ঘটে, যখন শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন, যখন শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকে এবং মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, তখন অনেক সময় মস্তিষ্ক শরীরের শিথিলতাকে ভুল সংকেত হিসেবে ধরে নেয়। মনে করে শরীর পড়ে যাচ্ছে, এবং সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে। এই কারণেই ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। তবে এই দ্বিতীয় কারণটি তুলনামূলকভাবে বিরল বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের।

তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মস্তিষ্কে কিছু বিশেষ রাসায়নিকের আকস্মিক নিঃসরণ বা মাত্রার পরিবর্তনে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠতে পারে। মস্তিষ্ক সেই পরিবর্তন বুঝতে না পেরে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে এবং শরীরকে দ্রুত জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে। এই অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনিই হল হিপনিক জার্ক।

অতএব, ঘুমের মধ্যে এমন ঝাঁকুনি অনুভব করলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যদি এটি ঘনঘন ঘটতে থাকে এবং আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ক্যাফেইন ও তামাকের ব্যবহার কমালে এবং পর্যাপ্ত ঘুম হলে এই সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।