সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করতেই পাকিস্তানকে চরম অস্বস্তিতে ফেললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের একবার নিজের কূটনৈতিক দক্ষতায় পাকিস্তানকে কোণঠাসা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্করের সপাট মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে।
কী ঘটেছিল সাংবাদিক সম্মেলনে?
আন্তর্জাতিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লি ও কাবুল থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো আর কতদিন চলবে?” এই প্রশ্নের উত্তরে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে জয়শঙ্কর অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আপনি ভুল মন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি করেছেন। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেতে আপনাকে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের জিজ্ঞাসা করতে হবে। মনে রাখবেন, বিশ্ব এখন আর বোকা নয় এবং কাউকে আর সহজে বোকা বানানো যাবে না।”
সন্ত্রাসের উৎসে ভারতের কড়া নজর:
জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। বিদেশমন্ত্রী পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের আসল কেন্দ্র কোথায়, তা আজ গোটা বিশ্বের কাছে পরিষ্কার। ২৬/১১ মুম্বই হামলা থেকে পুলওয়ামা—ভারত বারবার প্রমাণ করেছে যে, কীভাবে পাকিস্তানের মাটি থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। FATF-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও অতীতে সন্ত্রাসবাদকে অর্থসাহায্য করার অভিযোগে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের এই উত্তর শুধুমাত্র একটি প্রশ্নের জবাব নয়, বরং এটি ভারতের কঠোর বিদেশনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসবাদ ও কূটনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না’—এই বার্তাটিই আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে শুরু করে গোয়েন্দা তথ্য—প্রমাণের ভিত্তিতে ভারত আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে সন্ত্রাসের কারখানা কোথায় চলছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-এর উত্থানে নিজেদের দেশে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান যে এখন সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নেই নিজের জালে ফেঁসেছে, জয়শঙ্করের মন্তব্য সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।