গাঁজা থেকে তৈরি হবে ক্যান্সার প্রশমনের ওষুধ, আশার আলো দেখাচ্ছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

গাঁজা এবার শুধু নেশার দ্রব্য নয়, হতে চলেছে ক্যান্সার নিরাময়ের ওষুধ। এমনই এক আশার আলো দেখাচ্ছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR) জানাচ্ছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই তারা এই ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম হবেন। বর্তমানে এই ওষুধের অ্যাডভান্সড স্টেজের ট্রায়াল চলছে।

যে গাঁজা ড্রাগ হিসেবে পরিচিত, তা থেকে ওষুধ তৈরি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলেও বিজ্ঞানীরা আশ্বাস দিচ্ছেন, এর থেকে সত্যিই সুফল পাওয়া যাবে।

জানা গিয়েছে, বিজ্ঞানীরা দুটি নতুন ওষুধ তৈরি করছেন, যা ক্যান্সারের চিকিৎসায় বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধগুলির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ব্যথানাশক হিসেবে মরফিন ব্যবহার করা হয়, যার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গাঁজা-ভিত্তিক ওষুধে সেই সমস্যা থাকবে না। এছাড়াও, কেমোথেরাপির ফলে রোগীদের শরীরে যে বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়, এই নতুন ওষুধগুলি সে ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা নেবে। প্রাথমিকভাবে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এ এই ওষুধ চালু করা হবে। বর্তমানে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা কাজ এগিয়ে চলেছে।

এই দুটি ওষুধের প্রধান উপাদান হল ‘ক্যানাবিডিয়ল’ (Cannabidiol)। এই উপাদানটি ক্যানাবিস গাছ থেকে পাওয়া যায়। এটি একটি নন-সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদান, অর্থাৎ গাঁজার মতো এটি ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না। এই ধরনের ওষুধ ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভারতে এই ওষুধ তৈরি হলে, চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের প্রধান বিশ্বকর্মা এই প্রসঙ্গে বলেন, “ক্যানাবিস আসলে খুবই উপকারী একটি উপাদান। তবে এটি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে এবং এর অপব্যবহারও হয়ে থাকে।” তিনি আরও জানান, যেহেতু এই ওষুধ ভারতেই তৈরি হবে, তাই এর দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।

এই আবিষ্কার ক্যান্সার রোগীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, বিজ্ঞানীরা কত দ্রুত এই যুগান্তকারী ওষুধ বাজারে আনতে পারেন।