কাজ গোছাতে পারছেন না? মানসিক চাপমুক্ত হয়ে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর তিন সহজ উপায়

কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকে কাজ গুছিয়ে করতে পারেন না, যা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নিজের ইতিবাচক দিকগুলোর পরিচর্যার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা মূলত আমাদের চাপগুলোর মুখোমুখি হতে চাই না। নিজের তৈরি অজুহাত থেকে উত্তরণের জন্য নিজেকে একটা ছকের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। কাজ করতে হবে প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে।” নিজের অজান্তে তৈরি করা এসব ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আমরা কী কী করতে পারি, চলুন, জেনে নিই।

১. ধীরে ধীরে এগিয়ে যান:
আশপাশের অনেককে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই এবং নতুন কিছু করতে চাই। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের কাজ করার ক্ষমতা কতটা, তা ভেবে নেওয়া উচিত। কোনো কিছু করতে গিয়ে নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। এটি আপনার কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দিতে পারে। কারণ আপনার শরীর ও মন আগে এমন কাজের চাপের সম্মুখীন হয়নি। তাই বুঝে-শুনে নতুন কাজে পা বাড়ান এবং ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হন।

২. ‘না’ বলতে শিখুন:
অন্যের অনুরোধে বা নিজের লোভ সামলাতে না পেরে এমন কাজ করবেন না যা আপনার মূল কাজকে ব্যাহত করে। গুছিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজেকে ‘না’ বলা অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, ডায়েটের মাঝে খুব মজার খাবার দেখলে খেয়ে ফেলা, পড়া বাদ দিয়ে সিনেমা দেখে সময় নষ্ট করা, বা হাতের কাজ অন্য দিনের জন্য ফেলে রাখা—এ সবই আমাদের নিজেদের তৈরি ফাঁদ। আমরা নিজেদের আশ্বস্ত করি যে কাজটি পরে হয়ে যাবে, কিন্তু তাতে সময়ের অপচয় হয়। নিজের প্রতি কঠোর হয়ে ‘না’ বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. প্রকৃতির কাছে ফিরে যান:
গুছিয়ে ও মনোযোগ সহকারে কাজ করার জন্য মানসিক স্থিরতা অপরিহার্য। বর্তমানে আমরা কমবেশি সবাই ‘বোকা বাক্সের’ ফাঁদে পা দিয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের রঙিন পর্দায় চোখ রাখছি অথবা টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে সময় পার করছি। এতে আমাদের মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। তাই মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় কাটান প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও। কাছেপিঠের কোনো পার্কে যান, নিজের এলাকার রাস্তায় হেঁটে আসুন, ছাদে বা বারান্দায় বসে কিছুক্ষণ প্রকৃতি উপভোগ করুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো মানসিক অস্থিরতা কমিয়ে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা নিজেদের কাজের চাপ মোকাবিলা করতে পারব, মানসিক স্থিরতা বাড়াতে পারব এবং আরও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে পারব।