বাম দিকে ফিরে ঘুমানো কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত

মানুষের ঘুমের ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ চিৎ হয়ে ঘুমাতে ভালোবাসেন, কেউ আবার কাত হয়ে। কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও কেউ বাম দিকে, আবার কেউ ডান দিকে ফিরে ঘুমান। এমনকি অনেকে ঘুমের মধ্যে বারবার পাশ বদলান। তবে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, বাম দিকে ফিরে ঘুমানো শরীরের জন্য বেশি স্বাস্থ্যকর। সত্যিই কি তাই? এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বাম দিকে ফিরে ঘুমালে কী হয়, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।

বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা:

১. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্কের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জ্ঞানীয় কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

২. শরীরের টক্সিক পদার্থ হ্রাস ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরে জমা টক্সিক বা বিষাক্ত পদার্থ কমাতে সাহায্য করে। এর কারণ হলো, বাম দিকে শোওয়ার সময় লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম (লসিকাতন্ত্র) আরও কার্যকরভাবে কাজ করে, যা শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং ফলস্বরূপ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং রাগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে পারে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. হজমশক্তির উন্নতি: বাম দিকে ফিরে ঘুমালে পাকস্থলী টক্সিক পদার্থ ছেঁকে শরীর থেকে বের করতে অনেক বেশি সময় পায়। এর ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং পরিপাকতন্ত্রের সামগ্রিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

৫. স্লিপ অ্যাপনিয়া সারাতে কার্যকর: একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস স্লিপ অ্যাপনিয়ার (Sleep Apnea) মতো শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগ সারাতে অত্যন্ত কার্যকর। এই অবস্থানে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে এবং শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

যদিও ঘুমের ধরন ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, তবে উপরের সুবিধাগুলো বিবেচনা করলে বাম দিকে ফিরে ঘুমানো সত্যিই কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করতে পারে। তবে, যদি কারো নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে ঘুমানোর ভঙ্গি নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।