ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে যোগাসন: ওষুধ ছাড়াই আরামের উপায়

ঋতুস্রাব চলাকালীন পেটের ব্যথা, কোমরের ব্যথায় বহু মহিলাই নাজেহাল হন। এর ফলে দৈনন্দিন কাজেও ব্যাঘাত ঘটে। প্রতি মাসে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, কারণ এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়কার ব্যথা কমাতে যোগাসনের উপর ভরসা রাখা যেতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট আসন এই অস্বস্তি দূর করতে দারুণ কার্যকর। জেনে নিন কোন কোন যোগাসন আপনাকে আরাম দেবে।
১। বালাসন (Child’s Pose)
বালাসন আপনার প্রজনন অঙ্গগুলিকে নমনীয় করতে সাহায্য করে। একই সাথে এটি পিঠ, কাঁধ এবং ঘাড়ের টান মুক্ত করে। ঋতুস্রাবের সময় গর্ভাশয়ের পেশিতে ব্যথা অনুভব করলে এই সহজ ব্যায়ামটি আপনাকে স্বস্তি দেবে।
কীভাবে করবেন? হাঁটু মুড়ে গোড়ালির উপর বসুন। এবার শরীরটা সামনের দিকে বাঁকান যাতে বুক উরুতে গিয়ে ঠেকে। মাথা মাদুরের উপর রেখে হাত দুটো সামনের দিকে প্রসারিত করুন। এই ভঙ্গিতে কয়েক মিনিট স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকুন।
২। ধনুরাসন (Bow Pose)
অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) নিরাময়ের জন্য ধনুরাসন অত্যন্ত উপকারী। এটি প্রজনন অঙ্গগুলির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য পেটের অসুখের রোগীদের জন্যও এই আসন দারুণ কার্যকরী।
কীভাবে করবেন? উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা যতটা সম্ভব পিঠের উপর নিয়ে আসুন। এবার হাত দুটো পিছনে নিয়ে গিয়ে গোড়ালির উপর শক্ত করে চেপে ধরুন। চেষ্টা করুন পা দুটো মাথার কাছাকাছি নিয়ে আসতে। এই ভঙ্গিতে মেঝে থেকে বুক, হাঁটু ও উরু উঠে আসবে। পেট মেঝেতে রেখে উপরের দিকে তাকান। এই ভঙ্গিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে পূর্বের ভঙ্গিতে ফিরে যান।
৩। পশ্চিমোত্তানাসন (Seated Forward Bend)
এই আসনের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ঋতুস্রাব চলাকালীন এই আসন করলে শ্রোণীতল প্রসারিত হয়, যার ফলে পেটের তীব্র যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
কীভাবে করবেন? পা সোজা করে সামনে ছড়িয়ে বসুন। এবার ধীরে ধীরে শরীরটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পায়ের আঙুল স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। কোমর থেকে শরীর বাঁকাতে হবে, পিঠ সোজা রেখে। এই ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ থাকুন এবং গভীরভাবে শ্বাস নিন।
এই যোগাসনগুলি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ঋতুস্রাবের ব্যথা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে, কোনো গুরুতর সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।