জন্তর-মন্তর থেকে সাফদরজং হাসপাতাল, অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে হঠাৎ কেন চাঞ্চল্য?

বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষা সংস্কারের আইকন সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে দিল্লির জন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন ও পরবর্তীকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর বিখ্যাত চরিত্র ‘র্যাঞ্চো’-র সঙ্গে তাঁর জীবনের গভীর মিল খুঁজে পান অনুরাগীরা। যদিও আমির খান অভিনীত ওই চরিত্রটির সঙ্গে নিজের যোগসূত্র অতীতে অস্বীকার করেছিলেন ওয়াংচুক, তবুও তাঁর বৈপ্লবিক উদ্ভাবন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অসামান্য অবদান তাঁকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। লাদাখের ঐতিহ্যবাহী কৃত্রিম গ্লেসিয়ার বা ‘আইস স্তূপ’ আবিষ্কারের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই প্রকৌশলী ও সমাজকর্মী অতীতে রমন ম্যাগসেসে পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তাঁর এই অনশন ও তার শর্তসমূহ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এবং প্রতিবাদী রাজনীতির ইতিহাস বেশ সুদূরপ্রসারী। তাঁর পরিবার ও লাদাখের রাজনৈতিক অধিকারের লড়াইয়ের ইতিহাস প্রায় চার দশকেরও বেশি পুরনো। আজ যেভাবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ও প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন, ঠিক একইভাবে ৪২ বছর আগে তাঁর পিতা সোনম ওয়াংয়ালও লাদাখের সাংবিধানিক অধিকার ও তপশিলি উপজাতির (ST) মর্যাদার দাবিতে ঐতিহাসিক অনশনে বসেছিলেন। সেই সময় পরিস্থিতি এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজে লেহে পৌঁছে নিজ হাতে জুস খাইয়ে তাঁর অনশন ভাঙিয়েছিলেন। পরিবাবের সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করেই ওয়াংচুক আজ লাদাখের পূর্ণ রাজ্যত্ব, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে জানা যায়, দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপে ১৮ জুলাই তাঁকে জবরদস্তি সাফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি খাবার বা কোনো ধরনের তরল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে তিনি অনশন প্রত্যাহারের তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই শর্তগুলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মূল দাবি থেকে সরে আসার গুঞ্জন এবং বর্তমান পরিস্থিতির জেরে লাদাখের এই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদের আন্দোলন আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের।