গর্ভাবস্থায় ডায়েট নিয়ে চিন্তিত? প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি নিরাপদ? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ!

গর্ভাবস্থায় খাবারের তালিকা নিয়ে নতুন মায়েদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। পুষ্টিগুণে ভরপুর পরিচিত খাবারের মধ্যে ডিম অন্যতম, যা অনেকেরই রোজকার সকালের নাস্তার প্রধান অংশ। তবে গর্ভাবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তার কড়াকড়ির মাঝে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক—ডিম খাওয়া কতটা নিরাপদ? সুখবর হলো, সঠিকভাবে রান্না করা ডিম গর্ভাবস্থায় শুধু নিরাপদই নয়, বরং ভ্রূণের সুস্থ বিকাশ ও মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর।

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো এর সঠিক রান্না। ডিম প্রোটিনের একটি উচ্চমানের উৎস, যা মা ও শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে কাঁচা বা আধসিদ্ধ ডিম কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। কারণ, এতে ‘সালমোনেলা’ নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে, যা মারাত্মক ফুড পয়জনিং ঘটাতে পারে। তাই ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ—উভয়ই যেন পুরোপুরি সেদ্ধ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

‘কারেন্ট ডেভেলপমেন্টস ইন নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গবেষকরা ১,১০০-এর বেশি মা-শিশু জুটির ওপর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে শিশুর জন্মের ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ডিম, বিশেষ করে পুরো ডিম খেয়েছেন, তাদের গর্ভকালীন বয়সের তুলনায় শিশু ছোট (Small for Gestational Age – SGA) হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শুধু প্রোটিন নয়, ডিমের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বিও ভ্রূণের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় ডিমের সাদা অংশের চেয়ে পুরো ডিম খাওয়ার সুফল বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, গর্ভাবস্থায় দিনে কয়টি ডিম খাওয়া উচিত? বেশিরভাগ সুস্থ গর্ভবতী নারী সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তবে এটি সবার জন্য ধ্রুবক নিয়ম নয়। গর্ভবতী নারীর সামগ্রিক প্রোটিনের চাহিদা, ওজন এবং শরীরের অবস্থাভেদে একজন ডায়েটিশিয়ান বা ডাক্তার দিনে এক থেকে দুটি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। গর্ভাবস্থা একটি সংবেদনশীল সময়, তাই নিজের ব্যক্তিগত পুষ্টির চাহিদা বুঝতে কোনো দ্বিধা না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, সঠিক পুষ্টি ও সঠিক পরিমাপই নিশ্চিত করবে আপনার ও আপনার অনাগত সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।