বুক ধড়ফড়? সাবধান! শুধু টেনশন নয়, হতে পারে হার্টের বড় অসুখের লক্ষণ!

অনেকেই মাঝেমধ্যে বুক ধড়ফড়ের সমস্যায় ভোগেন। কখনো অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে এমনটা হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই বুক চিনচিন করে ব্যথা শুরু হয়, সঙ্গে বুক ধড়ফড়ানি, সারা শরীরে অস্বস্তি আর বিন্দু বিন্দু ঘাম। এই লক্ষণগুলো যদি বারবার দেখা দেয়, তাহলে তা কিন্তু চিন্তার কারণ হতে পারে।
পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃৎস্পন্দনের স্বাভাবিক হার প্রতি মিনিটে ৭২ বার। তবে ব্যক্তিভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। হার্টের সংকোচন-প্রসারণের সময় ও ছন্দের সামান্য হেরফের স্বাভাবিক, তবে এর একটা মাত্রা আছে। এই মাত্রা অতিক্রম করলে বা হৃৎস্পন্দনে বড় ধরনের গোলমাল দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না, তখনই নানা সমস্যা দেখা দেয়। হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া’ বলা হয়।
কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া কী?
অ্যারিদমিয়া হার্টের উপরের প্রকোষ্ঠ অ্যাট্রিয়া অথবা নীচের প্রকোষ্ঠ ভেনট্রিকলসে দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই রোগের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। আবার কারো ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা বা রাতে শুয়ে ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
অ্যারিদমিয়া সাধারণত দু’রকমের হয়: ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া এবং ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া।
ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া: যখন হার্টরেট কমে যাওয়ার ফলে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয়, তখন হার্টে ব্লক হতে পারে, একে ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া বলে। এক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-এর নিচে নেমে আসে। প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জনের হৃৎপিণ্ডে এমন স্পন্দনের গোলমাল দেখা যায়। ৬০ বছর বয়স পেরোলেই এই সমস্যা বেড়ে যায়। এই ধরনের অ্যারিদমিয়া থেকে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া: অন্যদিকে, ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া হলো এমন অবস্থা, যেখানে হার্টরেট প্রতি মিনিটে ১০০-এর বেশি হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি সামান্য পরিশ্রমেই অত্যধিক ক্লান্তি, শ্বাস নিতে সমস্যা, শরীর কাঁপা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এড়িয়ে যাওয়া চলবে না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। ইসিজি (ECG), হল্টার মনিটরিং, লুপ রেকর্ডার, ইকোকার্ডিওগ্রাফ এবং কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়।
প্রতিকারের উপায় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুক ধড়ফড় করা শুরু হলে অস্থির না হয়ে কিছু বিষয় মেনে চললে আরাম পাওয়া যেতে পারে:
আচমকা বুক ধড়ফড় করা শুরু হলে শান্ত হয়ে বসুন এবং ডিপ ব্রিদিং (deep breathing) অনুশীলন করুন। ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে আবার ছাড়বেন। এমন করতে থাকলে অনেক আরাম হবে।
বদ্ধ জায়গায় থাকবেন না, চেষ্টা করুন খোলা জায়গায় হেঁটে আসতে।
এই সময় ভুলেও সিগারেটে টান দেবেন না।
শরীরে অস্বস্তি শুরু হলে ভারী কাজ করবেন না, সিঁড়িও ভাঙবেন না। চুপ করে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন অথবা এক জায়গায় বসে থাকুন।
যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।